Breaking News
Home / রাজনীতি / ঢাকা মহানগর বিএনপির নিষ্ক্রিয়তায় তৃণমূল নগরকে আর নগর কেন্দ্রকে দুষছে

ঢাকা মহানগর বিএনপির নিষ্ক্রিয়তায় তৃণমূল নগরকে আর নগর কেন্দ্রকে দুষছে

‘সরকারবিরোধী আন্দোলন’ চাঙা করতে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করেও কোনও ফল পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন মহানগর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতারা। তাদের অভিযোগ, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক দু’ কর্ণধার সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাসের মতোই ব্যর্থ হয়েছে হাবিবুন নবী খান সোহেল ও আবদুল কাইয়ূমের বর্তমান কমিটি দু’টিও। প্রায় ৬ মাস পার হলেও এ সময়ে বিবৃতি-সংবাদ সম্মেলন-সেমিনারেই সীমাবদ্ধ ছিল কমিটি দু’টি কর্মসূচি। কিন্তু দলীয় নেতাকর্মীদের একটু সক্রিয় করতে পারেনি এ দু’ কমিটি। এ ব্যর্থতায় তৃণমূল নেতারা মহানগর বিএনপিকে আর মহানগর কেন্দ্রীয় বিএনপিকে দায়ী করছে।

চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল হাবিব উন নবী খান সোহেল ও কাজী আবুল বাশারকে যথাক্রমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়। আর আবদুল কাইয়ূম ও আহসান উল্লাহকে ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়। বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এক নেতা দুই পদে থাকতে পারবেন না। অথচ হাবিব উন নবী খান সোহেল একইসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি। পাশাপাশি আবদুল কাইয়ূমও দু’টি পদে রয়েছেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি।

প্রসঙ্গত, বিএনপির ঢাকা উত্তরের সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম জাপানের নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যা মামলার আসামি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে রয়েছেন।

কমিটির নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি স্বীকার করে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতারা বলছেন, কোনও আন্দোলন বা হরতাল-মিছিরে মতো কর্মসূচি পালন করতে না পারার জন্য একা এ মহানগর কমিটি দায়ী নয়। নিয়ম অনুযায়ী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি আন্দোলন-সংগ্রামের ঘোষণা দেবে, মহানগর বিএনপিসহ অন্য সংগঠনগুলো তা বাস্তবায়নে কাজ করবে। কেন্দ্র থেকে কর্মসূচির ঘোষণা না থাকায় মহানগর বিএনপি বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সেমিনার করে নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা করেছে। কেন্দ্র থেকে রাজপথের কোনও কর্মসূচি না থাকায় মহানগর কমিটিও তা পালন করতে পারেনি। অথচ খোকা-আব্বাসের মতোই ব্যর্থতার দোষ পড়েছে সোহেল-কাইয়ূম কমিটির ওপর। তারা বলছেন, খোকা-আব্বাসের সময় রাজপথে বিএনপির টানা তিন মাসের অবরোধ ও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর কর্মসূচি ছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচি তারা সফল করতে পারেননি।

রাজপথের আন্দোলনের ব্যর্থতার অভিযোগ স্বীকার করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ বলেন, ‘আমরা হয়তো সরকারের রোষানলে পড়ার মতো রাজপথে কোনও কর্মসূচি দেইনি। কিন্তু গতানুগতিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। ‘ উদাহরণ হিসেবে তিনি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসের আলোচনা সভা করার কথা উল্লেখ করেন।

দলটির ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার নিজের ব্যর্থতা দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়টি আমাদের মাথায় আছে। তবে আমাদের কাছে কেন্দ্র থেকে এমন কোনও কর্মসূচির ঘোষণা আসেনি যে, আমরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ব।

তবে, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতারা বলছেন অন্য কথা। তাদের অভিযোগ, যে কমিটি ৭ মাস পার হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ হয় না, সে কমিটি কিভাবে রাজপথে থাকবে? রাজপথে থাকতে হলে আগে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। না হলে নেতারা কাকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করবেন? আগে মহানগর বিএনপির দুই অংশের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। এরপর বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে হবে। না হলে এ কমিটির অবস্থাও হবে খোকা-আব্বাস কমিটির মতো।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর মুগদা এলাকার সাবেক এক ওয়ার্ড কমিশনার ও বিএনপি নেতা বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ কমিটির বয়স সাত মাস হয়ে গেছে। অথচ এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। তাহলে আন্দোলন কাকে সঙ্গে নিয়ে করবে?’ তিনি আরও বলেন, ‘ধরুন আগামীকাল হরতাল ডাকলো বিএনপি। আমার নির্বাচনি এলাকায় মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে কারা হরতাল সফল করবেন? মহানগর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমি নেই, আবার আমার থানার কমিটিও নেই। তাহলে কি হরতাল সফল হবে? তাই আগে মহানগরের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে হবে। তারপর থানা ওয়ার্ড কমিটি করতে হবে। এরপর রাজপথের আন্দোলনে যেতে হবে। তাহলে যারা পদ-পদবিতে পাবেন, তারাই হরতাল সফল করতে মাঠে নামবেন।’

মহানগর কমিটিতে পদ-প্রত্যাশী চকবাজার থানার একজন বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘আমি যদি কোনও থাকি, তাহলে আমাকে নির্দেশ দিতে পারবে কর্মসূচি সফল করতে। আমিও সাধ্যমতো কাজ করতে বাধ্য থাকব। আমার যদি কোনও পদই না থাকে, আমাকে কিভাবে নির্দেশ দেবে, বলুন?’

গত ১৮ এপ্রিল ঘোষিত বিএনপির এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটি দু’টি পূর্ণাঙ্গ করতে একমাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ৭ মাস পার হয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।

একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে না পারার বিষয়ে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন নেতারা। তারা বলছেন, রাজধানীর ৪৯টি থানা ও ১০০টি সাংগঠনিক ওয়ার্ড আছে। এত বড় একটি কমিটি একমাসে পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব নয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার জন্য প্রয়োজন প্রকৃত ত্যাগী-নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মী। প্রকৃত ত্যাগীদের খুঁজে বের করতে হবে আগে। তবেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হবে। আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেই নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠবেন। ‘

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার বলেন, ‘৭০ জনকে দিয়ে আংশিক কমিটি দেওয়া হয়েছে। একটি কমিটিতে ৭০জন নেতা অ্যাক্টিভ থাকলে আর পূর্ণাঙ্গ কমিটির দরকার আছে? এরপর গুরুত্ব বিবেচনা করে কমিটির আরও বড় করা হবে। ত্যাগী কর্মীদের বাছাই করা কঠিন কাজ। তাই চাইলেই নির্ধারিত সময়ে কমিটি দেওযা সম্ভব নয়। এ দুঃশাসনের সময় এমন একজন কর্মী নেই, যার বিরুদ্ধে মামলা নেই। দৃশ্যমান আন্দোলন হোক বা না হোক সবাই নিজেকে ত্যাগী দাবি করেন, কিন্তু প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না। আবার কেন্দ্রীয় নেতারা আব্দার করেন, তাদের পছন্দের লোককে কমিটিতে রাখতে। এভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়া যাকে-তাকে দিয়ে কমিটি তো গঠন করা যায় না। ‘

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ বলেন, ‘২৬টি থানা নিয়ে মহানগর উত্তরের কমিটি। কোনোভাবেই একমাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা যায় না। চাইলে হয়তো মুখস্ত কমিটি দিয়ে দিতে পারতাম। যাচাই-বাছাই করে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে কমিটি দিতে চাইলে এ সময়ের মধ্যে সম্ভব হবে না। এরপর আমরা একটা তালিকা সভাপতি আবদুল কাইয়ূমের কাছে পাঠিয়েছি। তিনি সেই তালিকা নিয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন। দলের চেয়ারপারসন দেশে ফিরে এলেই বলতে পারব, কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে।’

একই কারণ জানালেন ঢাকা মহানগর উত্তরের দফতর সম্পাদক এ বি এম আবদুর রাজ্জাক। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তুত আছে। দলীয় প্রধান খালেদা জিয়া দেশে এলে আশা করি, শিগগিরই কমিটি ঘোষণা করা হবে। আর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলে আশা করি নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠবেন।’ বাংলা ট্রিবিউন।

About superadmin

Check Also

দেশ আওয়ামী লীগ না, অন্য কেউ চালায়: ফখরুল

দেশ আওয়ামী লীগ না, অন্য কেউ চালায়, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *