Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / উঃ কোরিয়া একটি নিউক্লিয়ার বোমাও ছুড়লে, চিত্রটা ঠিক কেমন হবে?

উঃ কোরিয়া একটি নিউক্লিয়ার বোমাও ছুড়লে, চিত্রটা ঠিক কেমন হবে?

মাত্র একটা মোটামুটি সাইজের ওয়ারহেড যদি উত্তর কোরিয়া ফায়ার করে তবে ওটা জনবহুল কোনো শহর পুরোপুরি ধ্বংস করবে। লাখ লাখ মানুষ বেঘোরে মারা পড়বে।

তাদের মধ্যে যারা এই নিউক্লিয়ার আক্রমণে বেঁচে যাবেন, তার আহত অবস্থা তাকে বাকি জীবন ভোগাবে। ওই শহরের অবকাঠামো ধসে পড়বে।

আমেরিকার জন হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইউ-এস কোরিয়া ইনস্টিটিউটের ৩৮ নর্থ এর বিশ্লেষণে উত্তর কোরিয়ার একটি নিউক্লিয়ার আক্রমণের চিত্র এভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

একটিমাত্র মাঝারি সাইজের নিউক্লিয়ার বোমা যদি ছোড়া হয়, তবে দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভায়াবহ দৃশ্য দেখবে বিশ্ববাসী। ‘এ হাইপোথেটিক্যাল নিউক্লিয়ার অ্যাটাক অব সিউল অ্যান্ড টকিও : দ্য হিউম্যান কস্ট অব ওয়ার অন দ্য কোরিয়ার পেনিনসুলা’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই চিত্র দেখানোর চেষ্টা করেছেন বিশেষজ্ঞ মাইকেল জে জাগুরেক।

ধারণা করা হয়, উত্তর কোরিয়ার অধীনে ২৫টি নিউক্লিয়ার অস্ত্র আছে যেগুলোর ১৫-২৫০ কিলোটনের ওয়ারহেড বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

এই বোমাগুলোর ক্ষমতা এবং আক্রান্ত শহরের জনসংখ্যার ভিত্তিতে মৃত্যুর পাহাড়ের বিশালতা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। সবচেয়ে ভয়ংকর চিত্র দেখিয়েছেন ২৫০ কিলোটনের ওয়ারহেড দিয়ে। সিউল এবং ইনচেনের জনসংখ্যা যৌথভাবে ২ কোটি ৪১ লাখ ৫ হাজারের মতো।
এ দুই শহরের চোখের পলকে মারা পড়বে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৯৭ জন। আর নরকযন্ত্রণায় ভুগবেন ২৭ লাখ ৭৮ হাজার ৯ জনের মতো।

টোকিও আর ইয়োকোহামার জনসংখ্যা একযোগে ৩ কোটি ৭৯ লাখ। মারা পড়বেন ৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬৬৫ জন আর মারাত্মক আহত হবেন ২৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৭ জনের মতো।

উত্তর কোরিয়া মোট ৯৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল একেবারে প্রস্তুত করে রেখেছেন। এগুলো যখন তখন লক্ষ্য ছুটতে প্রস্তুত। এই বছরই প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯টি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ জানেন না, আসলে কতগুলো ওয়ানহেড তারা বানিয়েছে এবং এগুলো কতটা আধুনিক।

নিউক্লিয়ার নিরস্ত্রীকরণ ক্যাম্পেইনার জন হালামের ধারণা, ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার অধীনে ৪০-৬০টি ওয়ারহেড রয়েছে। আর ২৫০ কিলোটনের ওয়ারহেড আছে একাধিক।

৩৮ নর্থ এর বিশ্লেষণে ছোট আকারের ওয়ারহেডগুলো তাই বিবেচনায় তেমনটা আনাই হয়নি। কারণ বড় আকারের ওয়ারহেড যেখানে আছে, সেখানে একটা বিস্ফোরণ মানেই গোটা এক অঞ্চলে নরক নেমে আসা। তা ছাড়া বড় আকারের ওয়ারহেডের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে পারে।

দূরত্বের বিচারে সিউল এবং টোকিও হতে পারে টার্গেট। আবার তা ইউএস এর পশ্চিম উপকূলের শহরগুলোতেও পৌঁছতে সক্ষম।

হালাম বলেন, যদি এই অস্ত্রগুলোর ক্ষমতা এমটাই হয়ে থাকে তাহলে তা সিডনি পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে। যদি নিউক্লিয়ার অস্ত্রের লক্ষ্য কোনো আমেরিকান শহর হয়ে থাকে, তবে মৃত্যু পাহাড়টি আরো বড় আকারের হতে পারে।

অবশেষে আশার কথা শোনান তিনি। বলেন, আমরা এই স্বৈরাচারকে আমাদের এবং মিত্রদের অকল্পনীয় ঝুঁকির মুখে ফেলে রাখতে পারি না। এটা হতে যা করা দরকার আমরা তাই করব। এবং তা করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা একযোগে একটি ছবিও তুলেছেন। ওই ছবিটাকে বলা হচ্ছে ‘ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা’।

এ নিয়ে কথা শুনতে হোয়াইট হাউজের ডাইনিংয়ে জড়ো হয়েছিলেন সাংবাদিকরা। তারা ইউনিফর্ম পরিহিত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্প এবং মেলানিয়ার ছবি তুলেছেন। সেখানে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত এটা ঝড়ের আগের শান্ত অবস্থা’।

তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘কিসের ঝড়?’

‘আপনারা দেখতে পারবেন’, জবাব দিলেন প্রেসিডেন্ট।
সূত্র : ফক্স নিউজ।

About superadmin

Check Also

আফগানিস্তানে আমেরিকা ব্যর্থ; রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী পাকিস্তান

মঙ্গলবার মস্কোতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মোহাম্মাদ আসিফ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *