Breaking News
Home / রাজনীতি / হঠাৎ গণগ্রেপ্তারে ২০ দলীয় জোট উদ্বিগ্ন

হঠাৎ গণগ্রেপ্তারে ২০ দলীয় জোট উদ্বিগ্ন

সারা দেশে হঠাৎ গণগ্রেপ্তারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। গত এক বছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরুত্তাপ অবস্থানের কারণে অনেকটা স্বস্তিতে থাকলেও বিএনপির হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। দুই দিন ধরে দল ও জোটের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে আবারো পর্দার অন্তরালে যেতে শুরু করেছেন তারা। দলীয় সূত্র জানায়, গণগ্রেপ্তার এড়াতে এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে ২০ দলীয় জোটের নির্ধারিত বৈঠকও।

সূত্র আরো জানায়, নির্বাচন কমিশনের সংলাপে বিএনপির অংশগ্রহণ, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তার দেশে ফেরা ও সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছিলো বিএনপি। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় দলটির চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল।

বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, হঠাৎ করেই দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তন শুরু হয়েছে। গেল সোমবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।  ওইদিনই জোটের শরীক জামায়াত ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের ৯ জন নেতাকে আটক করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন- জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদ, সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মো. শাহজাহান, চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির জাফর সাদেক ও সেক্রেটারি জেনারেলের ব্যক্তিগত সহকারী নজরুল ইসলাম।

এরপর মঙ্গলবার বিএনপির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনে পুলিশি বাধা, লাঠিচার্জ ও নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। একইদিন জোটের অন্যান্য শরীক দলের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয় চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠান থেকে।

বিএনপির অভিযোগ, সরকার হার্ডলাইনে অবস্থান করছে। তাদের এই অবস্থান আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে অনেকে। আর এ কারণে বিরোধী পক্ষের নেতাকর্মীরা সতর্ক হয়ে উঠছে। পুলিশি ঝামেলা এড়াতে কোথাও জড়ো না হতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদল নেতা রজিবুল ইসলাম জানান, পুলিশি তৎপরতার কারণে এখন আর সন্ধ্যার পর নিয়মিত চায়ের আড্ডায়ও অংশ নেয়া হয় না। অবস্থার উন্নতি ঘটলে আবারো নিয়মিত রাজনৈতিক আড্ডা হবে।

তিনি আরো বলেন, বিগত এক বছর রাজনৈতিক উত্তাপ না থাকায় নেতাকর্মীরা নিশ্চিন্তে সভা-সমাবেশ করেছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে।

সোমবার বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে কুমিল্লার একটি আদালত। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বুধবার ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে বিক্ষোভ করবে বিএনপি।

এদিকে আলাদা বিবৃতির মাধ্যমে একই ইস্যুতে মঙ্গলবার সংগঠনটি জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এই কর্মসূচি পালনেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে নেতাকর্মীদের। অনেক জায়গায় পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। রাজধানীতেও আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির জানান, মঙ্গলবার শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ দিবস। এ উপলক্ষ্যে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দৈনিক বাংলা মোড়ে অবস্থিত জেহাদ চত্বরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে বাধার সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তিনি বলেন, প্রায় ৪ শতাধিক নেতাকর্মী সকাল সাড়ে ৯টায় জেহাদ স্কয়ারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের নেতৃত্বে ফুল দিতে গেলে পুলিশ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শহীদ জিহাদের ভাই কে এম সরফ উদ্দিন, ২০ দলীয় জোট শরীক দল এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনজুর হোসেন ঈসা, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, সহ-সাংগঠনিক আশরাফ ফারুক হিরা, তেজগাঁও কলেজের দপ্তর সম্পাদক জুয়েল ভূইয়া, আরাফাত বিল্লাহ খান, সাজিদ হোসেন বাবু। এসময় পুলিশ নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করে বলেও এই ছাত্র নেতা অভিযোগ করেন।

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর দেড়টার মধ্যে চট্টগ্রামে লেবার পার্টির চেয়ারম্যানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও নাসিমন ভবন এলাকা থেকে তাদের আটক করে। তবে রাতে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ইরামকে ছেড়ে দেয়া হয়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচি ও রাজপথের আন্দোলন না থাকায় মামলা-হামলা আর গ্রেপ্তারের আশঙ্কাও অনেকটা কমে যায়। অনেক নেতার নামে একাধিক মামলা থাকলেও গ্রেপ্তার আতঙ্ক না থাকায় তারাও অনেকটা প্রকাশ্যে চলে আসেন। তারা অংশগ্রহণ শুরু করেন বিভিন্ন কর্মসূচিতে। অনেকে আবার আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন লাভের আশায় গণসংযোগের মতো কার্যক্রমও আরম্ভ করেন। কিন্তু পুলিশি তৎপরতার কারণে তারা আবারো সতর্কতা অবলম্বন করতে শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির নাম শুনলেই আওয়ামী লীগ ভয় পায়। বিএনপির আওয়াজ শুনলে ওদের রক্তকণিকা থর থর করে কেঁপে ওঠে। বিএনপির আওয়াজে আওয়ামী লীগের সাধের দুর্গ হুড়মুড় করে ভেঙে পড়বে। এ কারণেই তারা মিছিল করতে দেয় না, সমাবেশ করতে দেয় না। কিন্তু গ্রেপ্তার, নির্যাতন, গুম-অপহরণ, বিচার বর্হিভূত হত্যা করে এদেরকে স্তব্ধ করা যায় না। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল।

About superadmin

Check Also

একদলীয় ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছে: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন: অবৈধ অগণতান্ত্রিক সরকার একদলীয় ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই বেগম ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *