Home / স্বাস্থ্য / বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

বিশ্ব খাদ্য দিবস আজ

খাদ্য প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম। বিশ্ববাসীর প্রয়োজনীয় খাদ্যের নিরাপত্তা, দরিদ্রতা ও পুষ্টিহীনতা দূর করে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৪৫ সালের ১৬ই অক্টোবর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO – Food & Agriculture Organization) ২০শ সাধারণ সভায় হাঙ্গেরির খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রী ড. প্যাল রোমানী বিশ্বব্যাপী এ দিনটি উদযাপনের প্রস্তাব দেন। ১৯৮১ সালে প্রথম আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিপাদ্যভিত্তিক ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উদযাপন শুরু হয়।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে ১৯৮১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ৫০ পয়সা দামের একটি ডাকটিকেট প্রকাশ করে। টিকেটটির নকশাকার ছিলেন আহমেদ এফ করিম। ১৯৮১ সাল থেকেই ১৫০টিরও বেশি দেশে দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০১৭ এর প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, Change the future of migration. Invest in food security & rural development, অর্থাৎ ‘অভিবাসনের ভবিষ্যৎ বদলে দাও। খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ উন্নয়নের বিনিয়োগ বাড়াও।’

খাদ্যের নিরাপত্তা কাকে বলে? খাদ্যের সহজপ্রাপ্যতা, পুষ্টিকর খাদ্যের সহজলভ্যতা এবং মানুষের খাদ্য ব্যবহারের অধিকারকে খাদ্যের নিরাপত্তা বলে। কোনো বাসাকে তখনই ‘খাদ্য নিরাপদ’ বলে মনে করা হয় – যখন এর বাসিন্দারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বসবাস করেন না কিংবা খাদ্যের অভাবে না খেয়ে থাকার আশংকা করেন না এবং পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব থেকে মুক্ত থাকেন।

বিশ্বে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা নেই! তারা অর্ধাহার-অনাহারে দিন কাটায়। এক জরিপে দেখা যায়, ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি দেশে খাদ্য নিয়ে দাঙ্গা হয়েছে। বর্ধমান জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ পৃথিবীর ৬ বিলিয়ন মানুষের মাঝে এখন ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ খাদ্যাভাবে দারিদ্র্যের কষাঘাতে ধুঁকে মরছে।

খাদ্য-নিরাপত্তায় বাংলাদেশের অবস্থান বেশ দুর্বল। তবে, এ বছর ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (IFPRI) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স – GHI) বাংলাদেশ দু’ ধাপ এগিয়েছে তথা ৯০ম থেকে ৮৮ম হয়েছে। ভারত ৯৭ম থেকে ১০০ম-তে নেমে গেছে। পাকিস্তান ১০৭তম থেকে ১০৬তম-তে তথা এক ধাপ এগিয়েছে। তবে, বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে নেপাল (৭২ম), মিয়ানমার (৭৭ম) ও শ্রীলংকা (৮৪ম)। আইএফপিআরআই বিশ্ব ক্ষুধা সূচক নির্ধারণে ৪টি মানদণ্ড বেছে নেয়; যথা- অপুষ্টি, শিশুর উচ্চতার তুলনায় কম ওজন, বয়সের তুলনায় কম উচ্চতা ও শিশুমৃত্যুর হার। এগুলোর ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি বিচার করে ১০০ পয়েন্টের এ সূচক তৈরী করা হয়। যে দেশের স্কোর যতো কম, সে দেশের পরিস্থিতি ততো ভালো, অর্থাৎ সেখানে ক্ষুধাজনিত পীড়ন কম। এ বছর মোট ১১৯টি দেশের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জিএইচআই এর রেংকিং করা হয়। বাংলাদেশের এবারের স্কোর ২৬.৫; গতবার ছিলো ২৭.১; অর্থাৎ উন্নতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ‘গুরুতর’ ক্ষুধার সমস্যা রয়েছে।

আজ ৩৭শ বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সেমিনার ও তিন দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করেছে।

About superadmin

Check Also

ঢাকা-চট্টগ্রামে তুলকালাম কাণ্ড সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে বিশ্ব ডিম দিবস পালিত

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ডিম সস্তায় বিক্রি এবং বিনামূল্যে খাওয়ানোর ঘোষণা দিয়ে লাঠিপেটায় সাঙ্গ হয়েছে এ কর্মসূচি! ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *