Breaking News
Home / রাজনীতি / গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি ক্ষমতায় বসতে কারও দয়া ভিক্ষা করে না: ফখরুল

গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিএনপি ক্ষমতায় বসতে কারও দয়া ভিক্ষা করে না: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন: বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা কারও কাছে দয়া ভিক্ষা করি না। আমরা একথা বলি না, আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দাও, কাউকে বলি না একথা। আমরা বিশ্বাস করি না, কেউ এসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে যাবে।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর ডিআরইউতে সাগর রুনি মিলনায়তনে গণ-সংস্কৃতি দল আয়োজিত অলি আহাদ ও চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলামের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গত রবিবার রাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠককে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল এসব বলেন।

 বিএনপির মহাসচিব বলেন: আমরা সমগ্র বিশ্বের কাছে একথা বলতে চাই, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্রের মুখোশ পড়ে, গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে যারা আন্তর্জাতিক বিশ্বে গণতন্ত্রের কথা বলছে, তারা মিথ্যা কথা বলছে। তারা আন্তর্জাতিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে। সে কারণে আমরা বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে দেখা করি। বাইরে থেকে কেউ আসলে তার সঙ্গে দেখা করি। এই কথাটাই আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। বর্তমান সরকার তার দলের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। কোথাও ভোট দিতে যেতে দেওয়া হয় না। আমাদের কোথাও দাঁড়াতেও দেয়া হয় না। আমাদের সভা করতে দেয়া হয় না। ঘরের মধ্যে মিটিং করতে হয়, যেখানে গোয়েন্দা বাহিনীর কতো লোক বসে আছে। এই যে বিষয়গুলো, এটা কোনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হতে পারে না। বিএনপির ৭০ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, হাজারের বেশি কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং পাঁচশোর বেশি নেতা-কর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। এরকম পরিবেশে আপনারা বলছেন- নির্বাচন করবেন, চমৎকার পরিবেশ আছে। কোনোটাই পরিবর্তন করতে দেবেন না। সেনাবাহিনী নিয়োগ করা যাবে না। সহায়ক সরকার করা যাবে না। সংসদ বিলুপ্ত করা হবে। তাহলে নির্বাচনের দরকারটা কী? বলে দেন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা। ৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছিলেন। এটা ঘোষণা করে দেন। আমাদের দলের চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধেও একের পর এক মিথ্যা মামলা। কীভাবে আপনারা এখানে গণতন্ত্রের কথা বলেন। কীভাবে ন্যায় বিচারের কথা বলেন। কীভাবে বলেন যে, আমরা কোনও পক্ষপাত করি না। ঐ আদালতকে কুক্ষিগত করবার জন্যই তো এভাবে প্রধান বিচারপতিকে অপমানজনকভাবে দেশ থেকে বের করে দিয়েছেন আপনরা। কোনও প্রতিষ্ঠান আপনারা বাকি রাখেননি। আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা-বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এটাকে খাটো করে দেখবার কোনও উপায় নেই। আজকে রোহিঙ্গাদের কেন্দ্র করে যেমন আমরা দেশে বড় বিপদে পড়েছি, তেমনি একটা বড় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে।

ডা. জাফরুল্লাহকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন: তিনি বলেছেন যে, এখানে আরেকটা প্যালেস্টাইন তৈরি করবার কাজ শুরু হয়েছে। আমরা রোহিঙ্গা বিষয়ে কোনও রাজনীতি করতে চাই না। আমরা বলেছি সরকারকে, জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই সমানভাবে। আমরা সহযোগিতা করতে চাই।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান চাষী নজরুলের স্ত্রী জোসনা কাজী ও অলি আহাদের কন্যা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

About superadmin

Check Also

দেশ আওয়ামী লীগ না, অন্য কেউ চালায়: ফখরুল

দেশ আওয়ামী লীগ না, অন্য কেউ চালায়, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *