Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / মাদক উৎপাদনে এ বছরও আফগানিস্তান শীর্ষে

মাদক উৎপাদনে এ বছরও আফগানিস্তান শীর্ষে

২০১৭ সালে আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদনে রেকর্ড হতে চলেছে। অপরিবর্তিত থাকছে তার বিশ্বের সর্বোচ্চ আফিম উৎপাদক দেশের স্থান। আফিম উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি তাতে তালিবানদের বৃহত্তর ভূমিকাও বজায় থাকছে। তাদের আয়ের সিংহভাগই আসে মাদক ব্যবসা থেকে। তালিবানরা যতোই মাদক ব্যবসার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, ততোই তাদের বেশিভাগ যোদ্ধা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ব্যাপারে কম আগ্রহ দেখাচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকেই আফগানিস্তান বিশ্বের বৃহত্তম আফিম উৎপাদক দেশ। হেরোইন তৈরিতে আফিম ব্যবহৃত হয়। তালিবানরা এ অঞ্চলের আফিম উৎপাদক ও পাচারকারীদের উপর কাছ থেকে কর আদায় এবং তাদের নিরাপত্তা দেয়ার লাভজনক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যোদ্ধা গ্রুপটি এমন এক সময়ে লাভ বাড়াতে মাদক ব্যবসায়ে তাদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ভাবে সম্প্রসারিত করেছে, যখন তারা আফগান সরকার এবং মার্কিন সমর্থকদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত মূলক সাফল্য অর্জন করছে।

সম্পর্কিত ছবি

নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্ট মতে, তালিবানরা মাদক ব্যবসার প্রতিটি ধাপে জড়িয়ে পড়েছে। আফগান পুলিশ এবং তাদের মার্কিন উপদেষ্টারা ক্রমেই বেশি সংখ্যায় হেরোইন পরিশোধন ল্যাব দেখতে পাচ্ছেন, যেগুলো সহজেই অপসারণ করা যায়। আফগানিস্তানে ১৬ বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শ’ শ’ কোটি ডলার ব্যয় করার পরেও আফগানিস্তান কিছুকালের জন্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ পরিমাণ আফিম উৎপাদন করে। আফগান ও পাশ্চাত্য কর্মকর্তারা এখন বলছেন, আফিম সিরাপের আকারে আফগানিস্তানের বাইরে যাওয়ার আগে আফিমের অন্তত অর্ধেকটা মরফিন বা হেরোইন আকারে দেশেই প্রক্রিয়াজাত হয়। পাচারের জন্যে আফিমের এ সব রূপ সহজ। তালিবানদের কাছে তা অনেক বেশি মূল্যবান। জানা যায়, মাদক ব্যবসা থেকে তালিবানদের আয়ের ৬০ শতাংশ আসে। মাদক পাচারে বেশি নজর দেয়ায় তালিবানরা এখন মাদক পাচার চক্রের স্থানে নিজেকে স্থাপিত করেছে।

ড্রাগস অ্যান্ড ল এনফোর্সমেন্ট বিষয়ক সাবেক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বছরের গোড়ার দিকে কাবুলে সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশে পাঠানোর আগেই তা প্রক্রিয়া করলে, তারা এ থেকে বেশি রাজস্ব পাবে। আমরা অল্প মাদক নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু প্রতি বছর শ’ শ’ কোটি ডলারের মাদক পাচার হচ্ছে – যা থেকে তালিবানরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পাচ্ছে।

কালো স্যুপের ন্যায় এক কেজি অপরিশোধিত আফিমের জন্যে একজন আফগান আফিম চাষী ১৬৩ ডলার পেয়ে থাকে। তা যখন পরিশোধিত হয়ে হেরোইন হয়, তখন আঞ্চলিক বাজারে প্রতি কেজি ২ হাজার ৩শ’ থেকে ৩ হাজার ৫শ’ ডলারে বিক্রি হয়। ইউরোপে প্রতি কেজি হেরোইনের পাইকারি মূল্য প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকে আফিম-পপি চাষ বেড়েছে। ২০১৬ সালে পপি চাষের এলাকা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তিন বছরের ভেতরে সে বছর বেশি জমিতে চাষ হয়। দি টাইমস জানায়, প্রাথমিক উপাত্ত থেকে দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সাল আরেকটি উৎপাদন রেকর্ডের বছর; যদিও সরকার দেশব্যাপী আফিম উৎপাদন হ্রাসের ব্যাপক চেষ্টা চালায়। আফিম প্রক্রিয়াকরণের জন্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ আটকের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে আফিম থেকে উৎপাদিত মরফিন ও হেরোইনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আফগান রাষ্ট্রপতি আশরাফ গণি বলেছেন, মাদক না থাকলে অনেক আগেই আফগান যুদ্ধ শেষ হয়ে যেতো। একজন জ্যেষ্ঠ আফগান কর্মকর্তা দি টাইমসকে বলেন, এখন হেলমন্দের একজন তালিবান কমান্ডার মাসে দশ লাখ ডলার আয় করে। শান্তির সময়ে সে কি তা পারতো?

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, আফগানিস্তানে তাদের নতুন কৌশলের লক্ষ্য হচ্ছে তালিবানদের এটা বোঝানো যে যুদ্ধক্ষেত্রে জয়লাভের কোনো উপায় নেই। তবে মাদক ব্যবসায় তাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা কাবুলের সাথে তাদের কিছু নেতাকে আলোচনায় অনুৎসাহী করেছে বলে মনে হচ্ছে। জাতিসংঘ বলেছে, আফগানিস্তানের শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এ প্রবণতার আসল ভূমিকা রয়েছে। কারণ, মাদক থেকে পাওয়া অর্থ সরকারের সাথে সমঝোতার আলোচনায় বসতে কিছু তালিবান নেতাকে নিরুৎসাহিত করছে।

তালিবানরা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাফল্য লাভের পর হেরোইন প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে উপস্থিত হয়েছে। ২০০১ সালের পর ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বেশি এলাকা দখল করে তালিবানরা। এ বছর সরকার আরো ৫ শতাংশ এলাকা হারিয়েছে। মার্কিন বিশেষ বাহিনী উপদেষ্টাদের সঙ্গে কয়েকশ’ আফগান কমান্ডো মাদক প্রবাহ হ্রাসের জন্যে কাজ করছে। কিন্তু মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আফগান কর্মকর্তাদের জন্যে অথবা নিরাপত্তা সমস্যার কারণে তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

আফগানিস্তানের উপ-মাদক মন্ত্রী জাভিদ কায়েম বলেন, হেলমন্দে আমরা ২ থেকে ৩ হাজার হেক্টর জমির মাদক ধ্বংসের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছি। কিন্তু আমরা সেখানে কিছু করতে পারবো না। কারণ, হেলমন্দ একটি যুদ্ধ এলাকা।

হেলমন্দে আফগানিস্তানের ৮০ শতাংশ আফিম পপি উৎপন্ন হয়। এক পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, এটা এক বিরাট মাদক কারখানা। হেলমন্দ বলতে বোঝায় মাদক, পপি ও তালিবান।

মার্কিন ড্রাগ এনফোস্যমেন্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আটক হেরোইনের সামান্য দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া থেকে আসে। অন্যদিকে, ইউরোপের স্ট্রিটগুলোতে পাওয়া হেরোইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ আসে আফগানিস্তান থেকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, কানাডায় পাওয়া হেরোইনের ৯০ শতাংশ ও যুক্তরাজ্যের ৮৫ শতাংশ হেরোইনের উৎস আফগানিস্তান। ২০১৭ সালের ইউরোপীয় মাদক রিপোর্ট মতে, ইউরোপে পাওয়া হেরোইনের অধিকাংশই আফগানিস্তান অথবা প্রতিবেশী ইরান ও পাকিস্তানে উৎপাদিত। (ইরানে মাদকাসক্তির বিস্ফেরণ গটেছে। মাদকের দু’তৃতীয়াংশই হচ্ছে আফিম।

হেরোইন হচ্ছে ইউরোপের সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত মাদক। ইউরোপীয় মনিটরিং সেন্টার ফর ড্রাগস অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডিকশন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী ইউরোপে বছরে ৬শ’ কোটি থেকে ৭৮০ কোটি ইউরো মূল্যের খুচরা মাদক বিক্রি হয়। সূত্র: ইনকিলাব অবলম্বনে।

About superadmin

Check Also

জেরুজালেমকে আমরা একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের দয়ার ওপর ছেড়ে দিতে পারি না: এরদোগান

সিরিয়া ও জেরুজালেম বিষয়ক সমস্যায় এক বৈঠকের পরর আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি রাষ্ট্রপতি এরদোগান ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *