Breaking News
Home / জাতীয় / উখিয়ার সীমান্তে আরো ৭০০ রোহিঙ্গা অপেক্ষমান

উখিয়ার সীমান্তে আরো ৭০০ রোহিঙ্গা অপেক্ষমান

কক্সবাজারের উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় গত রাতে প্রায় ৭০০ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিলো। শনিবার সন্ধ্যা থেকে সেখানে দেড় হাজারের মতো রোহিঙ্গা অবস্থান করছিলো। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মাঝে ৮০০ জনকে গতকাল উখিয়ার বালুখালীর বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠায় বিজিবি।

উখিয়ার সীমান্তের দায়িত্বে থাকা কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান বলেন: শূন্যরেখায় অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের কারো কাছে অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকসহ অবৈধ মালামাল রয়েছে কি না, তা যাচাই শেষে ৮০০ জনকে ঢুকতে দিয়েছেন তারা। ইউএনএইচসিআর, আইওএম, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থা ঐ রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। পরে প্রত্যেককে তল্লাশি করে বিজিবি। যারা এখনো শূন্যরেখায় অবস্থান করছে, তাদের বিষয়ে সোমবার (আজ) সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য মোতাবেক, ২৫ আগস্ট থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা।

এদিকে টেকনাফের নাফ নদে গতকালও রোহিঙ্গাদের ১১টি ভেলা ভাসতে দেখা যায়। উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ ও নয়াপাড়া এলাকায় নদীর তীরের বেশ কিছুটা দূরে এসব ভেলায় প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা ভাসছিলো। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো ভেলা তীরে ভেড়েনি।

এর আগে বুধবার থেকে রোববার পর্যন্ত ৫ দিনে মোট ১৬টি ভেলায় নাফ নদ পেরিয়ে ৮৩৬ রোহিঙ্গা টেকনাফে ঢুকেছে।

টেকনাফ ২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার বলেন, নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় দিনের বেলায় ভেলা ভাসিয়ে রোহিঙ্গারা টেকনাফে আসছে।

শাহপরীর দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনে রোহিঙ্গা আসা প্রায় বন্ধ থাকলেও রাতে নৌকায় করে রোহিঙ্গারা আসছে। ঐ ১১টি ভেলায় থাকা রোহিঙ্গারা রাতে সীমান্তের কোনো না কোনো এলাকা দিয়ে ঠিকই টেকনাফে ঢুকবে।

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় বলেন: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এখন রোহিঙ্গাদের ওপর তেমন কোনো হামলা হচ্ছে না। এরপরও সেখান থেকে রোহিঙ্গাদের চলে আসার পেছনে কিছু বিদেশি সংস্থা এবং এনজিওর ইন্ধন থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া, যেসব রোহিঙ্গা আগে বাংলাদেশে এসেছে, তারা ফোন করে স্বজনদের এখানে আসতে বলছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এলে ত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়েও সমস্যা নেই।

এ বিষয়ে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের সভাপতি মো. হারুন বলেন, রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে এখন তীব্র খাদ্যসংকট চলছে। এছাড়া ভয়ভীতি তো রয়েছেই। এ কারণে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে রোহিঙ্গারা। প্রথম আলো অবলম্বনে।

About superadmin

Check Also

খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানার প্রতিবাদে রোববার বিএনপির বিক্ষোভ

দুর্নীতির এক মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারে জারির প্রতিবাদে রোববার সারাদেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আজ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *