Home / ধর্ম / তাবলীগ জামাতের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এলো কওমী আলেমরা

তাবলীগ জামাতের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এলো কওমী আলেমরা

বাংলাদেশের তাবলীগ জামাতের মজলিশে শূরা সদস্য ও ফায়সাল (আমির) সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম ও হাফেজ মৌং জুবায়েরের গ্রুপের বিরোধের জেরে অস্থিরতা চলছে। এ সংকট নিরসনে প্রথমবারের মতো সংগঠনটির পরামর্শক ও উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়েছে ৫ কওমী আলেমকে। এছাড়া, নেয়া হয়েছে ৫টি সিদ্ধান্ত।

আজ সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া মাদ্রাসায় এ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছিলেন কাকরাইল মারকাজের ১০ শুরা সদস্য ও কওমী আলেমদের ৫ প্রতিনিধি।

শূরা সদস্যরা হলেন: সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মৌং জুবায়ের আহমদ, মৌং রবিউল হক, মৌং মোহাম্মদ হোছাইন, মৌং ফারুক, খান শাহাবউদ্দীন নাসিম, মৌং ওমর ফারুক, মৌং মোশাররফ হোসেন, মুহাম্মাদ ইউনুছ শিকদার ও শেখ নূর মুহাম্মদ।

আর কাওমী প্রতিনিধিরা হলেন: কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যান আশরাফ আলী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রসার মুহতামিম ও গুলশান সেন্ট্রাল (আজাদ) মসজিদের খতিব মাহমূদুল হাসান, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মৌং আব্দুল কুদ্দুছ, শোলাকিয়া ঈদ গাহের খতিব ফরীদ উদ্দিন মাসউদের প্রতিনিধি মুফতি মুহাম্মদ আলী ও মারকাজুদ দাওয়াহ বাংলাদেশের আমিনুত তালীম মৌং মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক।

সভায় তাবলীগ জামাতের সংকট নিরসনে এবং নিরপেক্ষ ধর্ম প্রচারে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এরপর সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো গণমাধ্যমের সামনে পেশ করেন মৌং মাহমূদুল হাসান। সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে:

১.কাকরাইল মারকাজের সব বিষয়ে শূরার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

২.দৈনন্দিন সাধারণ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে মুকিমরাও (কাকরাইলে স্থায়ীভাবে অবস্থানরত) শূরার বৈঠকে থাকতে পারবেন।

৩. বিশেষ ৩টি বিষয়ে (ক) কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে পরামর্শ (খ) অর্থনৈতিক বিষয়ক পরামর্শ (গ) সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা সংক্রান্ত পরামর্শ অথবা এ ধরনের কোনও গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সাময়িক বিষয়ে পরামর্শের সময় শূরা সদস্য ছাড়া মুকিম বা অন্য কেউ থাকতে পারবেন না।

৪. কাকরাইলে আহলে শূরা পাঁচ জন আলেমকে নিজেদের পৃষ্ঠপোষক ও উপদেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করেবেন। তারা হলেন: কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যান আশরাফ আলী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রসার মুহতামিম ও গুলশান সেন্ট্রাল (আজাদ) মসজিদের খতিব মাহমূদুল হাসান, শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব ফরীদ উদ্দিন মাসউদ, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল কুদ্দুছ ও মারকাজুদ দাওয়াহ বাংলাদেশের আমীনুত তালীম মৌং মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক।

এর আগে ২৯ই অক্টোবর ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় কওমী আলেমরা তাবলীগের সংকট নিরসনে আলোচনা করেন। এ নিয়ে বৈঠকে বসার পরামর্শ দেন মন্ত্রী। সেই অনুযায়ী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

১৪ই নভেম্বর সকালে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাবলীগ জামাতের দু’ গ্রুপের মাঝে কথা কাটাকাটি হয় কাকরাইল মসজিদে। এরপর তা রূপ নেয় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বাংলা ট্রিবিউন অবলম্বনে।

About superadmin

Check Also

পবিত্র জমজম কূপের অনেক সুন্দর সুন্দর নাম রয়েছে

(পরের অংশ) ‘জমজম’ শব্দের অর্থ ও নামকরণের কারণ নিয়ে মতভেদ আছে। অর্থ: প্রাচুর্য, সঞ্চিত, গর্জন, ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *