Home / সারা দেশ / বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে এসে দেহব্যবসার শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গা মেয়েরা

বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে এসে দেহব্যবসার শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গা মেয়েরা

মিয়ানমার থেকে পালিয়েছে যে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা, তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যে বাংলাদেশে এলেও এদের অনেকের ভাগ্যেই কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা জোটেনি।

সম্পর্কিত ছবি

আশ্রয়হীন সহায়সম্বলহীন এসব রোহিঙ্গার অনেকেই যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে বলে এক রিপোর্টে জানাচ্ছেন বিবিসির সংবাদদাতা রিটা চক্রবর্তী ।

এ সম্পর্কে বিবিসির একটি অনুসন্ধানীমূলক রিপোর্ট সম্প্রতি বিবিসির টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে।

রিটা জানাচ্ছেন, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত। দিনের বেলায় এখানে রয়েছে অপূর্ব প্রাকৃতিক শোভা। কিন্তু রাতের বেলা এখানে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। আর সেটা খুব একটা সম্মানজনক নয়।

এখানে রোহিঙ্গা তরুণীদের দেহ ব্যবসায় লাগানো হয়েছে। আর এটা করছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কয়েকজন। সাথে রয়েছে কিছু স্থানীয় বাংলাদেশী।

দেহব্যবসার জন্যে তাদের বিক্রি করা হচ্ছে। রিটা চক্রবর্তীর সাথে ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীর সাথে কথা হয়। তাকে একটি হোটেলে আটকে রেখে জোর করে দেহব্যবসা করাচ্ছে কয়েকজন রোহিঙ্গা। এখানে মেয়েটির অবস্থা যৌন দাসীর মতো।

নিরাপত্তার স্বার্থে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়। মেয়েটি বলছে: আমি এখানে কাপড়-চোপড় ধুই। তারা আমাকে দু’বেলা খেতে দেয়। আমি সারাদিন খাটি। রাতের বেলা ওরা আমায় বিছানা থেকে টেনে তোলে। তাদের মুখ ঢাকা থাকে। আমি কান্নাকাটি করলে, তারা আমায় মারধর করে। ছুরি দিয়ে খুন করার ভয় দেখায়। আমার গলা টিপে ধরে। এজন্য তাকে কোনো টাকা-পয়সা দেয়া হয় না।

১৫ বছর বয়সী আরেকটি মেয়ে জানায়, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তার মা’কে গুলি করে হত্যা করার পর সে নৌকায় চড়ে পালিয়ে আসে। নৌকা-ভাড়া মেটাতে তার শেষ সম্বলটুকু দিয়ে দিতে হয়। এরপর নৌকার মাঝি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমার কাছ থেকে সোনা-গয়না নিয়ে সে আমায় নৌকায় তুলে নেয়। নৌকার ভেতরে ঢোকার পরই সে আমায় ধর্ষণ করে। আমি বাধা দিলে, সে বলে, নৌকায় যেতে চাইলে তার কথা শুনতে হবে। আমি তখন খুব কাঁদছিলাম।

বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর তার আশ্রয় হয় এক মহিলার ঘরে। তরুণীটি ভেবেছিল ঐ মহিলা তাকে সত্যি সত্যি সাহায্য করছে। কিন্তু এখন ঐ মহিলা এখন তাকে দিয়ে জোর করে দেহব্যবসা করাচ্ছে! প্রতি রাতে তার ঘরে ঢুকছে একাধিক পুরুষ।

তরুণীটি বলছে: তারা মহিলাকে টাকা দেয়। তিনজন এলে আমায় ২৫০ টাকা দেয়। দু’জন এলে দেয় ২০০ টাকা। এসব আমার ভাল লাগে না। আমার খুব ব্যথা লাগে। দু’জন বা তিনজন যখন একসাথে আসে – আমি তখন আর সহ্য করতে পারি না। তখন তিনজনের মাঝে থেকে একজন চলে যায়। তারা আমাকে ওষুধ দিয়ে বলে এটা খাও। ওষুধ খাওয়ার পর আমি আর ব্যথা টের পাই না।

কক্সবাজারের স্থানীয় লোকজন এ দু’ তরুণীকে এখন সাহায্য সহযোগিতা করছে। কিন্তু তাদের মতো নিরাশ্রয়, সহায়হীন নারী এখানে রয়েছে অনেক। মিয়ানমারের সহিংসতা ছেড়ে পালিয়ে এসব নারী এসে পড়েছে এক নতুন নরকে। বিবিসি।

About superadmin

Check Also

বিএসএফের গুলিতে নিহত ১

দিনাজপুরের সদর উপজেলার বড়গ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দিনাজপুর-২৯ বিজিবির অধিনায়ক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *