Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ বৈধতা পেলো অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায়

‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ বৈধতা পেলো অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায়

১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তর্ক-বিতর্কের পর বুধবার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টে সংশোধনীসহ স্বেচ্ছামৃত্যু বিষয়ে একটি বিল পাস হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি ।

এই প্রথম দেশটির কোনো রাজ্যে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধতা পেল।  ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরটরি স্বেচ্ছামৃত্যুর বিধান চালু করলেও আট মাস পর ক্যানাবেরার ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তা বাতিল করে দিয়েছিল।

তবে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে পাস হওয়া আইনে হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকছে না কেন্দ্রীয় সরকারের; যে কারণে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় জনবহুল রাজ্যটিতে প্রাণঘাতী ওষুধের মাধ্যমে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানাতে পারবেন।

আবেদনকারীকে অবশ্যই ১৮ বছরের বেশি বয়সী হতে হবে এবং ‘ছয় মাসের বেশি বাঁচবেন না’ এমন গুরুতর অবস্থায় পৌঁছাতে হবে। মাল্টিপল স্কেলেরসিস ও মটর নিউরন ডিজিজের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার সময়সীমা ‘এক বছরের নিচে নেমে এলে’ আবেদন করা যাবে।

‘তীব্র ব্যথায় কাতর’ এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেই কেবল আইনটি ব্যবহার করা যাবে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

এ আইনের ৬৮ টি সুরক্ষাও থাকছে, যার মধ্যে আছে- রোগীকে অন্তত তিন দফা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আবেদন জানাতে হবে; নির্ধারিত বোর্ড আবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে।

ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে অন্তত ১২ মাস থেকেছেন এবং ‘মানসিকভাবে সুস্থ’ এমন রোগীরাই আবেদন করতে পারবেন। এ আইনেও রোগীকে জোর করে মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়াকে অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

আইনটি অনুমোদনে ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্টে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়েছে। রাতভর অধিবেশনের দুই দফাতেই টানা ২৬ ও ২৮ ঘণ্টা বিতর্ক হয়।

অনেক সাংসদই স্বেচ্ছামৃত্যুর বিলটির বিরোধিতা করেছেন, প্রস্তাবিত বিলে একশটিরও বেশি সংশোধনী জমা পড়ে বলে বিবিসি জানায়।

স্বেচ্ছামৃত্যু অনুমোদিত হওয়ার পর সাংসদদের অনেককেই উচ্ছ্বসিত হতে দেখা গেছে; নতুন এ আইন মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের যন্ত্রণা কমাবে বলেও প্রত্যাশা করছেন তারা।

“সংসদীয় প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে এবং রাজনীতিতে সমবেদনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে পারায় আমরা গর্বিত। এটাই রাজনীতির শ্রেষ্ঠত্ব; ভিক্টোরিয়া তার সর্বোচ্চটাই করে দেখিয়েছে- জাতিকে পথ দেখাচ্ছে,” বলেন রাজ্যের প্রিমিয়ার ডেনিয়েল অ্যান্ড্রু।

গত মাসে তার সহকারী লেবার পার্টিরই আরেক প্রভাবশালী নেতা জেমস মারলিনো স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমোদন চাওয়া বিলের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। ‘গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ বিলটিকে ‘বয়সী ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের কৌশল’ বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য রাজ্যে এখনো স্বেচ্ছামৃত্যু অবৈধ। কানাডা, নেদারল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মতো হাতে গোনা কয়েকটি দেশেই কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমোদন আছে। বিডিনিউজ২৪।

About superadmin

Check Also

জেরুজালেমকে আমরা একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের দয়ার ওপর ছেড়ে দিতে পারি না: এরদোগান

সিরিয়া ও জেরুজালেম বিষয়ক সমস্যায় এক বৈঠকের পরর আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি রাষ্ট্রপতি এরদোগান ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *