Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / কী হবে জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘের আজকের ভোটাভুটিতে!

কী হবে জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘের আজকের ভোটাভুটিতে!

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে আনা একটি প্রস্তাবের পক্ষ-বিপক্ষে বৃহস্পতিবার ভোট দেবেন বিশ্ব সংস্থাটির সদস্যরা।

ভোটাভুটির আগেই যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়ে বলেছে, এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়া দেশগুলোকে দেখে নেওয়া হবে!

জবাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে উচ্চকিত কণ্ঠ তুরস্ক বলেছে, সাধারণ পরিষদে ন্যূনতম দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলে প্রস্তাবটি পাস হবে। আমাদের ইতোমধ্যে তা আছে। এরপরও তুরস্ক ও ওআইসি সদস্যরা ঐ সংখ্যা আরো বাড়াতে কাজ করছে।

দু’ পক্ষের এমন দৃঢ় অবস্থানের ফলে জেরুজালেম ইস্যুতে সাধারণ পরিষদের আজকের ভোটাভুটির দিকে নজর থাকছে পুরো দুনিয়ার। ভোটাভুটির ফল কেমন হতে পারে – এর একটা বিশ্লেষণ দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।.

একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী ঘোষণায় ট্রাম্পের যে জেদ, এর প্রতি সমর্থন নেই খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোরই। ১৮ই ডিসেম্বর ২০১৭ সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের এ সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের অসহায়ত্বই যেনো ফুটে উঠেছে। ১৫ সদস্যের এ সংস্থায় ১৪টি দেশই জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী করার বিপক্ষে ভোট দেয়। মিত্র ইসরাঈলকে বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’ চালিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন বাস্তবতায় এখন এ ইস্যুতে সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটির আগেই যে কোনো মূল্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাঈলের পাশে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ভোটাভুটির ফল কেমন হতে পারে তার একটা আভাস মিলেছে খোদ ইসরাঈলী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’র এক বক্তব্যে। আজ নিজ দেশের একটি হাসপাতাল উদ্বোধনকালে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন: ‘জাতিসংঘ স্বীকার করুক না না করুক, জেরুজালেমই ইসরাঈলের রাজধানী। যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিকভাবে এটা স্বীকার করতে ৭০ বছর সময় লেগেছে। জাতিসংঘেরও একই পথ অনুসরণ করতে কয়েক বছর সময় লাগবে। ইসরাঈল স্পষ্টভাবে তাদের এ ভোটাভুটি প্রত্যাখ্যান করছে। জেরুজালেম আমাদের রাজধানী। সেখানে আমরা স্থাপনা তৈরি অব্যাহত রাখবো।

এ সময় জাতিসংঘকে ‘মিথ্যার কারখানা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন নেতানিয়াহু।

ইসরাঈলী প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এক ধরনের তোড়জোড় ছিলো যেনো জাতিসংঘের ভোটাভুটিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছে দেশটি। বাস্তবতা কিন্তু তা বলে না। এর প্রমাণ, নিরাপত্তা পরিষদে এ ইস্যুতে অপমানজনক পরিস্থিতিতে পড়ার পর এখন ইসরাঈলের হয়ে অন্যান্য দেশকে রীতিমতো হুমকি-ধামকি দিচ্ছে ইসরাঈলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ট্রাম্প প্রশাসন। এ ইস্যুতে সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের কাছে মেইল করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি নিকি হ্যালি।

উনি ইমেইলে লিখেছেন: আপনারা যখন ভোট দেয়ার কথা ভাবছেন, তখন আমি জানাতে চাই মার্কিন রাষ্ট্রপতি এ ভোটকে ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে এ ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি আমায় বলেছেন, কোন কোন দেশ আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছে, তা যেনো জানাই। এ ইস্যুতে প্রত্যেকটি ভোটকেই আমরা পর্যালোচনার আওতায় রাখবো।

তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের এমন হুমকি ধামকি খুব একটা কাজে আসবে বলে খোদ ইসরাঈলও বিশ্বাস করে না। যার প্রমাণ ইসরাঈলী প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ ভোটাভুটি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা। জয়ের ব্যাপারে ন্যূনতম আশাবাদ থাকলে, তাদের ভাষা নিঃসন্দেহে ভিন্ন রকমের হতো।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন: আমরা সবাই যখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে শান্তিপূর্ণ একটি পরিকল্পনার প্রত্যাশা করছিলাম, তখন দেশটি শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কাউকে পাশে না পেয়ে মিত্র খুঁজতে ব্যস্ত ইসরাঈলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বারস্থ হন। জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তবে নেতানিয়াহু’র মুখের ওপর তার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সংস্থাটির পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ফেদরিকা মোঘেরিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ইইউ এ নগরীকে ফিলিস্তিন ও ইসরাঈল উভয় দেশেরই রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। মোঘেরিনি’র এমন বক্তব্য নেতানিয়াহু’র কপালের ভাঁজটাকেই যেনো আরও প্রকট করে তুলেছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্যও এ ইস্যুতে ইসরাঈলের পাশে নেই। তুর্কি রাষ্ট্রপতি এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনালাপে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের পর, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেছে। প্রকাশ্যেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপের নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় থাকা জার্মানি ও ফ্রান্স।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা থাকায় তারা এককভাবে যে কোনো সিদ্ধান্ত আটকে দিতে পারে। কিন্তু সাধারণ পরিষদে ভেটো দেয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় মিত্র ইসরাঈলের জন্যে সুযোগ খুঁজতে এখন গলদঘর্ম হতে হচ্ছে মার্কিন কূটনীতিকদের। এ চেষ্টায় হয়তো নানা প্রলোভন বা হুমকি দেখিয়ে ছোটখাটো কয়েকটি দেশের সমর্থনও বাগিয়ে নিতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে সেই সংখ্যাটা হয়তো খুব বেশি হবে না। তারপরও শেষ পর্যন্ত কী ঘটে, তা দেখতে ভোটাভুটি শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আনাদোলু এজেন্সি।

About superadmin

Check Also

পূর্ব জেরুজালেমই ফিলিস্তিনের রাজধানী হবে: পেন্সকে জর্দানের রাজা

জেরুজালেমকে ইসরাঈলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জর্দানের রাজা আব্দুল্লাহ বলেছেন, ফিলিস্তিন-ইসরাঈল ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *