Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / শিশুদের বই থেকে সুচির জীবনী বাদ দেয়ার দাবি

শিশুদের বই থেকে সুচির জীবনী বাদ দেয়ার দাবি

বিশ্বের খ্যাতনামা ১০০ জন নারীর জীবনী নিয়ে শিশুদের জন্য ইংরেজি ভাষায় রচিত একটি বই থেকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সুচিকে বাদ দেয়ার দাবি উঠেছে। সমালোচকরা পরবর্তী সংস্করণ থেকে সুচিকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বৃটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বইয়ের লেখক এলেনা ফাভিলি ও ফ্রান্সেসকা কাভালোও এখন সমালোচকদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা ভাবছেন। পরবর্তী মুদ্রণে সুচি’র জীবনী না রাখার কথা বিবেচনা করছেন তারা।

সু চি

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তোপের মুখে রয়েছেন সুচি। গণতন্ত্রপন্থী ও সাহসী নারী হিসেবে সুচি’র পুরনো যে ভাবমূর্তি ছিলো তা ক্ষুণ্ন হয়েছে। শান্তিতে নোবেলজয়ী এ নেত্রীকে দেয়া কয়েকটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এইবার ১০০ আদর্শ নারীর তালিকা থেকে সুচিকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠেছে।

‘গুড নাইট স্টোরিজ ফর রেবেল গার্লস’ বইটিতে মারি কুরি থেকে শুরু করে হিলারি ক্লিনটন, সেরেনা উইলিয়ামসসহ বিশ্বের ১০০ জন সাহসী নারীর জীবনী অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।  গত বছর যখন বইটি লেখা হয়, তখন সেটিতে অন্য ৯৯ জন নারীর পাশাপাশি সুচিকেও স্থান দেয়ার যোগ্য ভাবা হয় এবং তাকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

ছয় এবং তার চেয়ে বেশি বয়সী শিশুদের জন্যে রচিত বইটিতে ১০০ জন নারীর প্রত্যেকের জীবনীর জন্যে দু’ পৃষ্ঠা করে বরাদ্দ দেয়া আছে। সুচির পরিচয়ে বলা হয়, তিনি একজন নোবেলজয়ী এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এক সাহসী নারী।

২১ বছর ধরে গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে সুচি’র প্রতিবাদ থেকে শুরু করে তার মুক্তি এবং তার নেতৃত্ব পর্যন্ত ঘটনাগুলোকে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বইয়ে উল্লেখ করা হয়: ‘গৃহবন্দি থাকা অবস্থাতেই তিনি (সু চি) নিজ দেশ বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষকে প্রেরণা যুগিয়েছেন, নোবেল পুরস্কার জিতে নিয়েছেন।’

বইয়ে সু চির জীবনীর অংশে তার একটি উদ্ধৃতিও দেয়া হয়েছে। উদ্ধৃতিটি হলো: আমরা যে বিশ্বে বাস করি, সেই বিশ্বের জন্য আমাদেরকে সর্বোচ্চটুকু করতে হবে।

বইটির ফেসবুক পেজে লেনকা উজাকোভা নামের একজন লিখেছেন ‘বইয়ের ৯৯ ভাগই প্রেরণাদায়ক হলেও, বইটিতে গণহত্যায় সন্দেহভাজন কাউকে অন্তর্ভূক্ত করাটা একেবারে ন্যাক্কারজনক। এসব নারীর মাঝে অং সান সুচি’র কোনো জায়গা নেই।

এক বিবৃতিতে লেখকরা বলেন: আমরা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং পরবর্তী মুদ্রণের সময় তাকে সরিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছি না।

গুড নাইট স্টোরিজ ফর রেবেল গার্লস বইটি প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হয়। পরে যুক্তরাজ্যে বইটি প্রকাশ করে পার্টিকুলার বুকস। গত সপ্তাহে ব্ল্যাকওয়েল বইটিকে তাদের বুক অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারসহ ১২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছিলেন অং সান সুচি। তার স্বামী অরিস একজন ইংরেজ। এ জন্য সু চি যখন মিয়ানমারে গৃহবন্দি অবস্থায় কাটান,তখন তার প্রতি ইংরেজদের সহানুভূতি ছিল বেশি। তাই তারা তাকে নানা সম্মাননায় ভূষিত করেছিল। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিকভাবে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। এ কারণে তাকে দেয়া বৃটেনের বিভিন্ন কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা কেড়ে নেয়ার তোড়জোর শুরু হয়। ইতোমধ্যে সুচিকে দেয়া ফ্রিডম অব অক্সফোর্ড ও ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব ডাবলিন পুরস্কার ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। গার্ডিয়ান।

About superadmin

Check Also

রাশিয়ান এস-৪০০’র বদলে তুরস্কের কাছে পেট্রিয়ট বেচতে চায় আমেরিকা

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির জন্য তুরস্ককে প্রভাবিত ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *