Breaking News
Home / ধর্ম / শান্তা ক্লজের বাড়ি ফিনল্যান্ড না তুরস্ক?

শান্তা ক্লজের বাড়ি ফিনল্যান্ড না তুরস্ক?

 

শান্তা ক্লজের বাড়ি ফিনল্যান্ড না তুরস্ক? এর ছবি ফলাফল

তিনি অনেক নামের একজন মানুষ! ডাচরা তাকে সিন্টার ক্লাস বলে ডাকলেও জার্মানিতে তিনি স্যান্টাক্লজ নামে পরিচিত। তবে সহজভাবে তাকে শান্তা ক্লজ নামেই চেনে সারা বিশ্ব।

এদিকে, অনেক দেশ তাকে নিজেদের বলে দাবি করলেও একটি দেশ শান্তা ক্লজের অফিসিয়াল হোম ঘোষণায় এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে।

মধ্যযুগীয় উদার খৃষ্টান পাদ্রী সেন্ট নিকোলাসকেই আধুনিক যুগের শান্তা ক্লজের পেছনের অনুপ্রেরণা বলে মনে করা হয়।  চতুর্থ শতকে তুরস্কের ছোট রোমান নগর মুরার বিশপ ছিলেন এই সন্যাসী। এতোদিন ধরে তুর্কিরা ছাড়াও তার কবরস্থান ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে রয়েছে বলে দাবি করে আসছিলো দেশ দু’টি।

তবে গত অক্টোবরে তুর্কি প্রত্নতাত্ত্বিকরা আনাতলিয়া প্রদেশের সেন্ট নিকোলাস চার্চের নিচে একটি প্রাচীনতম সমাধির ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেছেন – যা থেকে তারা বিশ্বাস করেন যে, সেন্ট নিকোলাস তাদেরই।

তুরস্ক সেন্ট নিকোলাসের সমাধির স্থান হওয়ার দাবিটি প্রমাণ করতে পারলে, শান্তাপ্রেমীদের বিশ্বব্যাপী তীর্থযাত্রার একটি সম্পূর্ণ নতুন গন্তব্যও থাকবে সেখানে।

কিন্তু ফিনল্যান্ডও এ দাবি ছাড়তে নারাজ। ফিনরা মনে করেন, শান্তা ক্লজ তাদের ল্যাপল্যান্ডের কোরাওয়াতুন্টুরির বাসিন্দা ছিলেন। আর কোরাওয়াতুন্টুরি সেই জায়গা – যেখানে জোলুপুপির উৎপত্তিস্থল – যা শান্তা ক্লজেরই পূর্ববর্তী রুপ। তাই, ফিনল্যান্ডের শান্তা ক্লজের ঐতিহ্য অনেক পুরানো।

মধ্যযুগে খৃষ্টধর্ম ফিনল্যান্ডে আসার আগে থেকেই দেশটির বাসিন্দারা একটি মধ্য শীতকালীন পৌত্তলিক উৎসব উদ্‌যাপন করতেন। নুটুতিপুক্কি নামের উৎসবটি সেন্ট নূউটের দিন ১৩ই জানুয়ারি উদ্‌যাপিত হতো; যেদিন অনেক নর্ডিক দেশে ঋতুকালীন ছুটি শেষ হয়।

উৎসবের দিন জ্যাকেট, বার্চ গাছের ছাল, মুখোশ ও শিংয়ের পোশাক পরা পুরুষেরা বাড়তি খাবার ও উপহারের দাবিতে দর কষাকষি করতে দ্বারে দ্বারে যান। নুটুতিপুক্কিরা মন্দ আত্মার প্রতীক ছিলেন – যারা যা চান, তা না পেলে, জোরে জোরে চেঁচিয়ে শিশুদের ভীত করে তুলতেন।

১৮০০ এর দশকে দাতা সেন্ট নিকোলাস যখন ফিনল্যান্ডে পরিচিত হয়ে ওঠেন, তখন মুখোশধারী নুটুতিপুক্কির প্রাক বিদ্যমান চরিত্রের সঙ্গে ঐতিহ্যের মিশ্রণে জোলুপুপিকে তৈরি করা হয়।

নুটুতিপুক্কির খাবার দাবির বিপরীতে জোলুপুপি উপহার হস্তান্তর শুরু করেন। শান্তা ক্লজের মতোই চিমনি দিয়ে ঢুকে লাল রঙের কাপড় পরিহিত জোলুপুপি দরজা খুলে দিতেন এবং জিজ্ঞাসা করতেন: এখানে কি কোনো ভালো লক্ষ্মী ছেলে-মেয়ে আছে?

তার উপহার বিতরণের পর জোলুপুপি কোরাওয়াতুন্টুরিতে ফিরে আসতেন। ফিনিশরা বিশ্বাস করেন, কোরাওয়াতুন্টুরিতে জোলুপুপির সবকিছুই এখনো শোনা যাবে।

গত নভেম্বর মাসে ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জোলুপুপি বা ফিনল্যান্ডের শান্তা ক্লজের ঐতিহ্যকে অনুমোদন করে। দেশটির ন্যাশনাল ইনভেন্টরি অব লিভিং হেরিটেজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জোলুপুপিকে। এরপর বিশ্ব অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে তালিকাভুক্তির জন্যে এবং সুরক্ষা পেতে ইউনেস্কো’র কাছে আবেদন জানিয়েছে দেশটি।

ফিনল্যান্ডের শান্তা ক্লজ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি জারি আহজাহারা বলেন: এটি ফিনিশ শান্তা ক্লজ ও আমাদের জন্যে একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা আশা করছি যে, শেষ পর্যন্ত ফিনিশ শান্তা ক্লজ ঐতিহ্যকে ইউনেস্কো’র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদিও ইউনেস্কো তালিকাটি স্বতন্ত্র ফিনিশ ঐতিহ্য হিসাবে শান্তা ক্লজকে চিনতে পারবে না। তবে ফিনল্যান্ডের জন্যে এটি একটি স্মরণীয় স্বীকৃতি হবে – যেখানে শান্তা ক্লজের অবস্থান ও জীবনযাপনের স্থান হিসাবে ফিনল্যান্ডের দাবিকেই শক্তিশালী করবে। সূত্র: বাংলা নিউজ২৪।

 

About superadmin

Check Also

পাকিস্তানে আজান সম্প্রচার না করলে টিভি লাইসেন্স বাতিল

আজান হচ্ছে দিনের সবচেয়ে বড় ব্রেকিং নিউজ। কাজেই, এখন থেকে পাকিস্তানের প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দিনে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *