Breaking News
Home / জাতীয় / সোনা চোরাচালান: বিমানকে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড; ময়ূরপঙ্খী বাজেয়াপ্ত

সোনা চোরাচালান: বিমানকে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড; ময়ূরপঙ্খী বাজেয়াপ্ত

সোনা চোরাচালানের দায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেছে ঢাকা কাস্টম হাউস। একই সঙ্গে চোরাচালানকৃত পণ্য বহনের দায়ে বিমানের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ (এস২-এএইচভি) ময়ূরপঙ্খীকে বাজেয়াপ্ত করেছে কাস্টম। তবে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে উড়োজাহাজটি অবমুক্তির সুযোগ দিয়েছে কাস্টম হাউস। বিমান ও কাস্টম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান স্বাক্ষরিত এক বিচার আদেশে (বিচার আদেশ নম্বর ১৭১/কাস/২০১৭) বিমানকে এ দণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৬ সালের ১২ মে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিটে হজরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যাংকক থেকে আসা বিজি ০৮৯ ফ্লাইট থেকে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনা চোরাচালানের ঘটনায় এ দণ্ড দেওয়া হয়। সেই ফ্লাইটে উড়োজাহাজের টয়লেটের বিভিন্ন অংশ থেকে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনা জব্দ করা হয় । এগুলোর মধ্যে ৯৯৮ গ্রাম ওজনের ৮টি ও ১১৬ গ্রাম ওজনের ২০টি স্বর্ণের বার রয়েছে। জব্দকৃত সোনার মূল্য ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মে মামলা করা হয় (মামলা নম্বর ১২৩/২০১৬)। এ চোরাচালানের ঘটনায় বিমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশের পাশাপাশি ৪ দফা শুনানিতে অংশ নিতে চিঠি দেয় ঢাকা কাস্টম হাউস।

সূত্র জানায়, বিমান পক্ষ থেকে নোটিশের জবাব ও একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তবে কোনও শুনানিতে অংশ নেয়নি বিমান। ঘটনার একটি তদন্ত প্রতিবেদন কাস্টম হাউসে জমা দেয় বিমান।

বিমানের সূত্রে জানা গেছে, সেই ফ্লাইটে দু’জন ককপিট ক্রু এবং ৪ জন কেবিন ক্রু ছিলেন। তারা হলেন,পাইলট তাসমিন দোজা, ফার্স্ট অফিসার মুনজেরিন রায়ান, জুনিয়র পার্সার ফ্লোরা নাসরিন, শফিকা নাসিম নিম্মি, ফ্লাইট স্টুয়ার্ড সালাউদ্দিন চৌধুরী, শামিমা নাসরিন মৌ। এ ঘটনায়  মহাব্যবস্থাপক (সিএমআইএস) হাসান আহমেদ চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স মো. শফিকুল আলমকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিমান। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একক কোনও যাত্রীর মাধ্যমে এ চোরাচালানের চেষ্টা হয়নি। একটি চক্র এ সোনা পাচারের চেষ্টা করতে পারে। এ পাচারের সহায়তাকারী হিসেবে কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা না হলে বিমানের ক্যাটারিং সার্ভিস ও প্রকৌশল বিভাগের কেউ জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়।

কাস্টম হাউসের বিচার আদেশে বলা হয়, কাস্টম আইন অনুসারে আটককৃত ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনা রাষ্ট্রের অনুকূলে দাবিদারহীন হিসেবে বাজেয়াপ্ত করা হলো এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চোরাচালানে সরাসরি জড়িত থাকায় ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হলো। বিজি ০৮৯ ফ্লাইটে ব্যবহৃত উড়োজাহাজে চোরাচালানকৃত পণ্য বহনের দায়ে বাজেয়াপ্ত করা হলো। তবে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে উড়োজাহাজটি অবমুক্তির সুযোগ দেয় কাস্টম হাউস।

কাস্টম হাউসের বিচার আদেশের পর্যালোচনায় বলা হয়, বিমানের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কোনও যাত্রী উড়োজাহাজে ১০ কেজির বেশি মালামাল নিয়ে উড়োজাহাজে উঠতে পারবেন না। তারপরও যাত্রী শুধু ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনার বার ও হাত ব্যাগ নিয়ে কিভাবে উঠলেন তার ব্যাখ্যা নেই। ঘটনার দিন বিমানের টয়লেট খোলার জন্য প্রথমে যে টেকনিশিয়ান আসেন তিনি টয়লেট না খুলে জানান যে, এ টয়লেট বিমান ক্রয়ের পর থেকে কেউ খুলেনি। পরবর্তীতে চিফ ইঞ্জিনিয়ারের অনুমতি সাপেক্ষে ইঞ্জিনিয়াররা টয়লেট খোলেন ও সোনা উদ্ধার করেন। ফলে প্রথম টেকনিশিয়ানের বক্তব্য মিথ্যা, অথচ তদন্ত প্রতিবেদনে তাকেও সন্দেহ করা হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে সন্দেহ করা হয় দুবাই, মাস্কট থেকে সোনাগুলো বিমানে ওঠানো হতে পারে। এজন্য বিমানের প্রকৌশল বিভাগ ও বিএফসিসিকে প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হয়। বিমানের প্রকৌশল বিভাগের লাইন মেইন্টেনেন্স এবং বেস মেইন্টেনেন্সকেও সন্দেহ করা হয়।

কাস্টম হাউসের পর্যালোচনায় বলা হয়, শুধু সন্দেহ পোষণ করে এবং সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করে অসমাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে যে কারণে ফাইন্ডিং শূন্য। বিমানের তদন্তকালে যাদের সন্দেহ করা হয়েছিল তাদেরকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত করে ন্যূনতম শাস্তি বা তাদের বিরুদ্ধে থানায় এজহার না দিয়ে বরং তাদের চিহ্নিত না করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অথচ এটা নিশ্চিত হওয়া যায়, বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় সোনার বারগুলো বিমানে উঠিয়ে দক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে টয়লেটে লুকানো হয়েছে। যাত্রীরা নেমে যাবার পর বিমানের লোকজন ছাড়া অন্য কারও উড়োজাহাজে ওঠার সুযোগ নেই। বরং উড়োজাহাজের টয়লেট থেকে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সোনা পাচার করতো। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে বিমান জানায়, জাতীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমানের ওপর চোরাচালানের অভিযোগ আনা সঠিক নয়, এতে জাতীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। অথচ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, চোরাচালানের মতো ঘৃণ্য কাজটি বিমানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সরাসরি সহযোগিতায় সংঘটিত হয়েছে। কোনও দায়ী ব্যক্তিকে সুনির্দিষ্ট করা না গেলে বিমান কর্তৃপক্ষ এর দায় কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।

মামলার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ মে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাংকক থেকে আগত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৮৯ ফ্লাইট অবতরণ করে। সোনা চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ দল সেদিন এই ফ্লাইট অবতরণ করলে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর নজরদারি রাখা হয়। যাত্রীরা উড়োজাহাজ থেকে নেমে যাওয়ার পর উড়োজাহাজে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালায় প্রিভেন্টিভ দল। তল্লাশির এক পর্যায়ে উড়োজাহাজের পেছনের টয়লেট থেকে বাদামি রঙয়ের একটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এরপর উড়োজাহাজের টয়লেটগুলোতে আরও নিখুঁতভাবে তল্লাশির জন্য বিমানের প্রকৌশল বিভাগে টেকনিশিয়ান পাঠাতে অনুরোধ জানায় ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ দল। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর একজন টেকনিশিয়ান প্রিভেন্টিভ দলকে জানান, উড়োজাহাজটি ক্রয়ের পর টয়লেটগুলোর বিভিন্ন অংশ কখনও খোলা হয়নি এবং খোলার জন্য কোনও যন্ত্রপাতি তাদের কাছে নেই। পরবর্তীতে বিমানের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের (তৎকালীন) অনুমতি নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় টয়লেটগুলোর বিভিন্ন অংশ খোলা হয়। উড়োজাহাজের সামনের অংশে ককপিট ক্রুদের পাশের টয়লেটের সারাউন্ড কভার খোলা হলে ভেতরে কালো রঙয়ের কাপড়ের একটি ছোট ব্যাগের মধ্যে অফ হোয়াইট রংয়ের স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো ৪টি প্যাকেট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ৪টি প্যাকেট কাস্টমস আগমনী হলের ব্যাগেজ কাউন্টারি নিয়ে খোলা হলে ৯৯৮ গ্রাম ওজনের ৮টি স্বর্ণের বার এবং ১১৬ গ্রাম ওজনের ২০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, উড়োজাহাজ একটি স্পর্শকাতর যানবাহন। উড়োজাহাজ পরিচালনা, ব্যবহার, যাত্রী ওঠানো ও নামানোর নিয়মনীতি রয়েছে। যাত্রী উড়োজাহাজে ওঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফ্লাইটে ওঠেন। উড়োজাহাজের যাত্রী ওঠানোর দরজা খোলা হলে নির্ধারিত সময়ে বোর্ডিংপাসপ্রাপ্ত যাত্রীরা লাইন ধরে উড়োজাহাজে ওঠেন। এয়ারলাইন্সের ক্রুরা যাত্রীদের বোর্ডিং পাস অনুসারে সিটে বসার ব্যবস্থা করেন। ফলে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম সোনার বার এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অজ্ঞাতসারে কোনও যাত্রীর পক্ষে টয়লেটে গিয়ে স্ক্রু খুলে সেখানে রেখে ফের স্ক্রু লাগানো সম্ভব নয়। একইসঙ্গে কোনও যাত্রী সোনাগুলোর মালিক হলে উড়োজাহাজ থেকে নামার সময় সেগুলো নিয়ে নেমে যেতেন। কারণ, উড়োজাহাজের টয়লেটে সোনা ফেলে রেখে গেলে যাত্রীর পক্ষে সে সোনা পাওয়ার কোনও উপায় নেই।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, সোনার বারগুলো উড়োজাহাজের স্পর্শকাতর স্থানে লুকিয়ে আনা হয়েছে, প্রশিক্ষিত ব্যক্তি ছাড়া টয়লেটের বিভিন্ন স্থানের স্ক্রু খুলে সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এসব সোনার বার বিমানবন্দরে কর্মরত বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংঘবদ্ধ চক্র পাচার করতো। কোনও ব্যক্তি সোনার বারগুলোর দাবিদার হিসেবেও  আবেদন করেননি। ফলে প্রতীয়মান হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী কর্মরত একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এ ঘটনায় ১২ মে সোনার বারগুলো জব্দ করে শুল্ক গুদামে জমা রাখা হয়। একই সঙ্গে বাজেয়াপ্তযোগ্য পণ্যবহন কাজে ব্যবহৃত বিমান বাংলাদেশের উড়োজাহাজটিও কাস্টম আইন অনুসারে আটক করা হয়।  আটককৃত উড়োজাহাজটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এর জিম্মায় ছাড় দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, জব্দকৃত সোনাগুলোর দাবিদার না থাকায় এসব সোনা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করাসহ কেন দণ্ডনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ২০১৬ সালের ২৬ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। সেই নোটিশে বলা হয়,২০১৬ সালের ১২ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৮৯ ফ্লাইটের কর্মরত এক বা একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত মর্মে প্রতীয়মান হয়। বর্ণিত অবস্থায় আপনার/আপনাদের দফতরের হতে তদন্ত করে জড়িত কর্মকর্তা কর্মচারীদের নামের তালিকাসহ কারণ দর্শানোর নোটিশের লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। নোটিস ইস্যুর ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়। একইসঙ্গে যদি প্রকৃত দোষীদের তালিকা পাঠাতে ব্যর্থ হয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চোরাচালানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নির্দোষ প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তাহলে কেন অর্থদণ্ড আরোপ করা হবে না, তার জবাব দিতে বলা হয়। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত শুনানি প্রদানে আগ্রহী থাকলে তাও জবাবে উল্লেখ করতে বলে কাস্টম হাউস।

সূত্র জানায়, নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই কাস্টম হাউসকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে নোটিশের জবাব দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে কাস্টম হাউস থেকে দেওয়া দায়কে ‘কথিত’ উল্লেখ করে দায় ও ব্যক্তিগত শুনানি থেকে অব্যাহতি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। নোটিশের জবাবে বিমান জানায়, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনা উদঘাটন করা সম্ভব হবে। জবাবে আরও বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, ফলে কোনও চোরাচালানের সঙ্গে এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা যুক্তিসঙ্গত নয়। বিমানকে সরাসরি দায়ী করা আদৌ সমীচীন নয়, যা প্রকারান্তে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন কাস্টম হাউসে জমা দেওয়া হবে বলেও জবাবে জানানো হয়। বিমানের উড়োজাহাজের মালিক সরকার, ফলে একটি বিচ্ছিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য সরকারের উড়োজাহাজ বাজেয়াপ্ত করা এবং অর্থদণ্ড আরোপ করা সমীচীন নয় বলে প্রতীয়মান হয়।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ২৩ নভেম্বর তদন্ত ১৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় বিমান। তদন্ত প্রতিবেদনের পর্যালোচনা করে কাস্টম হাউস বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সেই ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন ২০১৭ সালের ৯ এপ্রিল শুনানিতে অংশ নিতে ডাকা হলেও তারা আসেননি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২২ মে পুনরায় শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলে বিমান শুনানিতে অংশ না নিয়ে সময় বাড়ানোর আবেদন করে। সে আবেদনের পর সময় বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৯ জুলাই শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও সেদিনও বিমানের কেউ আসেননি। পরবর্তীতে ২২ আগস্ট ফের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও বিমানের কেউ উপস্থিত হননি।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সের কোনও কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঢাকা কাস্টম হাউসের কমিশনার প্রকাশ দেওয়ান বলেন, ‘কাস্টম আইন অনুসারেই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আইন অনুসারেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ বাংলা ট্রিবিউন।

About superadmin

Check Also

প্রথম দফায় ১২৫৮ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার

বাংলাদেশে অাশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে থেকে প্রথম দফায় ১২৫৮ জনকে ফেরত নিতে চায় মিয়ানমার – যাদের মাঝে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *