Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / প্রথমবার রোহিঙ্গা হত্যার স্বীকারোক্তি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর

প্রথমবার রোহিঙ্গা হত্যার স্বীকারোক্তি মিয়ানমার সেনাবাহিনীর

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে বুধবার এক বিবৃতিতে এ স্বীকারোক্তি এসেছে। স্থানীয় বৌদ্ধ ও সেনারা ঐ হত্যাকাণ্ড ঘটায় জানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গ্রামবাসী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানে আইন বহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরল এ স্বীকৃতি এলো।

গত ২৪শে অগাস্ট রাতে একযোগে মিয়ানমার পুলিশের ৩০টি তল্লাশি চৌকি ও একটি সেনা ঘাঁটিতে হামলার পর ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সেখানে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। পরে চার মাসে সাড়ে ছ’ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

ঐ অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে জাতিসংঘ। অভিযানে এক মাসেই ৬ হাজার ৭০০ মানুষকে হত্যা করা হয় বলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শ’ শ’ রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার প্রমাণ উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে।

রোহিঙ্গা হত্যার স্বীকারোক্তি মিয়ানমার সেনাবাহিনী এর ছবি ফলাফল

সেনাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীরা। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষ্যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে যে অভিযান চালায়, তার গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ একটি অংশ ব্যাপক হারে ধর্ষণ।

রোহিঙ্গাদের ওপর এ নিষ্ঠুরতা নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা-প্রতিবাদের মাঝে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের সেনারা নৃশংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কিছুই করেনি।

গত ১৮ই ডিসেম্বর মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনের রাজধানী সিতভি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে ঊপকূলীয় ইন দীন গ্রামে একটি গণকবরে ১০ জনের লাশ পাওয়ার কথা জানায়। এরপর ঘটনা তদন্তে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে নিয়োগ করে সেনাবাহিনী।

বুধবার সেনাবাহিনী বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঐ ১০ জনকে হত্যা করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে এবং এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেইসবুক পোস্টে বলা হয়, গত ১লা সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঐ এলাকায় অভিযানে গেলে ২০০ বাঙালী সন্ত্রাসী লাঠি ও তরবারি নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়লে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ১০ জন ধরা পড়ে। আইন অনুযায়ী, আটকদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিলো। কিন্তু যোদ্ধারা একের পর এক হামলা চালাচ্ছিলো এবং তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর দু’টি যান ধ্বংস করেছিলো। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১০ বাঙালী সন্ত্রাসীকে থানায় হস্তান্তরের কোনো পরিস্থিতি ছিলো না এবং তাদের মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেছে সেনাবাহিনী।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, গেরিলা হামলায় স্বজন হারানো ক্ষুব্ধ রাখাইন বৌদ্ধ গ্রামবাসী আটকদের মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। গ্রামের এক পাশে একটি গণকবরে ঢুকিয়ে তাদের ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তারপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। আইন লংঘনে ঐ গ্রামবাসী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এছাড়া, ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করা সেনা সদস্য এবং ঐ অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আয়ে উইনের নেতৃত্বে এ তদন্ত হয়। নভেম্বরে সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিলো। এর নেতৃত্বও দিয়েছিলেন এ কর্মকর্তা। রয়টার্স।

About superadmin

Check Also

রাশিয়ান এস-৪০০’র বদলে তুরস্কের কাছে পেট্রিয়ট বেচতে চায় আমেরিকা

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রির জন্য তুরস্ককে প্রভাবিত ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *