Home / অপরাধ / জয়নাব খুনের নেপথ্যে কি মন্ত্রী-সমর্থিত শিশু পর্নোগ্রাফি চক্র জড়িত?

জয়নাব খুনের নেপথ্যে কি মন্ত্রী-সমর্থিত শিশু পর্নোগ্রাফি চক্র জড়িত?

পাকিস্তানে ৭ বছর বয়সী শিশু জয়নাবকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আটক মোহাম্মদ ইমরান আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত। পাকিস্তানের টিভি উপস্থাপক ড. শহিদ মাসুদের অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত পাঞ্জাব পুলিশকে এ আদেশ দেয়।  ড. শহিদের দাবি মোতাবেক, জয়নাব হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ইমরান পাকিস্তানের একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ প্রভাবশালী এক গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট। ছড়িয়ে পড়া এক হোয়াট’স অ্যাপ মেসেজেও দাবি করা হচ্ছে, স্থানীয় একজন সাংসদ কাসুর পর্ন ইন্ডাস্ট্রির মূল হোতা। ড. শহিদের আশঙ্কা, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালেই ইমরানকে হত্যা করা হতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৫শে জানুয়ারি) আদালত ইমরানের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছে।

৪ঠা জানুয়ারি কোরআন ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে পাঞ্জাবের কাসুর শহর থেকে ৭ বছরের শিশু জয়নাবকে অপহরণ করা হয়। তখন বাবা-মা ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে থাকায় খালার কাছে ছিলো সে। পরে ৯ই জানুয়ারি এক পুলিশ শাহবাজ খান রোডে আবর্জনার স্তূপ থেকে জয়নাবের লাশ উদ্ধার করেন। সে কাসুরে এক বছরের ভেতরে যৌন নিপীড়নের শিকার ১২শ শিশু। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং এর আগে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে ২৩শে জানুয়ারি তার সন্দেহভাজন খুনি মোহাম্মদ ইমরানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, ২৪ বছর বয়সী ঐ সন্দেহভাজন সিরিয়াল কিলার ইতোমধ্যে জয়নাব এবং আরও ৭ জন মেয়ে শিশুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে সন্দেহভাজন ইমরানের সঙ্গে শিশু নিপীড়ক চক্রের সংযোগ থাকার ধারণাটি সামনে আসে পাকিস্তানের একটি টিভি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের টিভি উপস্থাপক ড. শহিদ মাসুদ তার অনুষ্ঠানে দাবি করেন, জয়নাবের সন্দেহভাজন খুনি একটি আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং তার ৩৭টি ফরেন কারেন্সি একাউন্ট রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫শে জানুয়ারি) শহিদ মাসুদের বক্তব্যটিকে আমলে নেয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি মিঞা সাকিব নিসারের নেতৃত্বাধীন ৩ বিচারপতির বেঞ্চ পাঞ্জাব পুলিশকে এ ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দেয়। ইমরান আসলেই শিশু নিপীড়নে জড়িত আন্তর্জাতিক চক্রের হয়ে কাজ করছে কিনা, শিশুদের যৌন নিপীড়নের ভিডিও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের হাতে তুলে দিচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয়।

ড. শহিদ মাসুদ

টিভি উপস্থাপক: ডঃ শহিদ মাসুদ
কাসুরের শিশু জয়নাবকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় শুরু থেকেই পাঞ্জাব সরকার এবং সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দু’ দফায় লাহোর হাইকোর্ট এবং সবশেষ সর্বোচ্চ আদালত থেকে আসামি গ্রেফতারে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিলো। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেয়া ৩ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার একদিন আগে ইমরানকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। তবে বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জয়নাবের বাবা-মাসহ সেখানকার অভিভাবকদের আস্থার অভাব রয়েছে।

বৃহস্পতিবার শুনানির সময় টিভি উপস্থাপক ড. মাসুদও বিচারপতিদের ঐ বেঞ্চের সামনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন: অপ্রত্যাশিতভাবে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের মাতাল আর হতাশাগ্রস্ত মানুষ ইন্টারনেটে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের চিত্র দেখে বিকৃত আনন্দ পায়।

তাদের জন্য শিশু পর্নোগ্রাফি নির্মাণ করা হয়। ইমরানের দাবি, অভিযুক্ত ইমরান মানসিকভাবে অসুস্থ নয়, সে একটি চক্রের সদস্য। একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসহ প্রভাবশালী লোকজন সন্দেহভাজন ইমরানকে সমর্থন যুগিয়ে গেছে। আদালত মাসুদের কাছে এ অপরাধে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জানতে চায়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নামগুলো গোপন রাখা হবে বলেও জানায় আদালত। মাসুদ আদালতের কাছে অন্য সন্দেহভাজনদের নামের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছেন। অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে ‘চরম পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে যারা মাসুদকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদেরই নাম উপস্থাপন করা হয়েছে। ইমরানকে পুলিশি হেফাজতে হত্যা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন মাসুদ। প্রধান বিচারপতি বলেন: টিভি উপস্থাপকের দাবি সত্য হলে, মূল সন্দেহভাজনের নিরাপত্তাও একটি উদ্বেগের বিষয়।

ছবি: জয়নাবের সন্দেহভাজন খুনি ইমরান আলী

নিরাপত্তা হেফাজতে সন্দেহভাজনের নিরাপত্তা রক্ষার দায় পাঞ্জাবের আইজির। আদালত জানায়, হেফাজতে থাকা অবস্থায় সন্দেহভাজনের কোনও ধরনের ক্ষতি হলে এজন্য পাঞ্জাব পুলিশকে দায়ী করা হবে। ২৯শে জানুয়ারি পর্যন্ত মামলাটির শুনানি মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে পাঞ্জাবের এডিশনাল এডভোকেট জেনারেল আসমা হামিদ আদালতকে জানান, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থাপক মাসুদের বক্তব্যের সত্যতা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাজ শরিফ নিজেও। তিনি লিখেছেন: জয়নাবকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় অভিযুক্তের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছি। এ ইস্যুতে তদন্তের জন্য স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি এবং ফরেনসিক সায়েন্স এজেন্সির ডিজিকে সহযোগিতা করার জন্য যৌথ তদন্ত দলকে দায়িত্ব দিয়েছি।

এদিকে কাসুরে একটি হোয়াট’স অ্যাপ মেসেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঐ মেসেজে দাবি করা হচ্ছে, স্থানীয় একজন আইন প্রণেতা কাসুর পর্ন ইন্ডাস্ট্রির মূল হোতা। হুসাইনিওয়ালা-কাসুর-গান্ডাসিংওয়ালা সেক্টর দিয়ে ঐ রাজনীতিবিদ শিশু পর্ন ভিডিও ভারতে পাচার করেন বলে অভিযোগ করা হয় ঐ ভিডিওতে। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, স্কাই নিউজ, ডেইলি পাকিস্তান, শামা টেলিভিশন ও ডন।

About superadmin

Check Also

ত্রাণের জন্যে সিরীয় মেয়েদের যৌনকাজে বাধ্য করা হয়!

জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার পক্ষ হয়ে ত্রাণ বিতরণের কাজে নিয়োজিত পুরুষরা সিরীয় নারীদের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *