Breaking News
Home / জাতীয় / খালেদা জিয়াকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে: মওদুদ

খালেদা জিয়াকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে: মওদুদ

খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়নি, সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

আজ (শনিবার) বিকালে নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। তাকে একজন সাধারণ কয়েদি হিসেবে রাখা হয়েছে। নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে নেত্রীকে। সেখানে অন্য কোনও কারাবন্দি নেই। এটি অন্যায়। আমরা এ বিষয়ে আদালতে যাব। রায়ের সত্যায়িত কপি পেলে, আগামী সোমবার অথবা মঙ্গলবার জামিনের জন্য আপিল করা হবে।

খালেদা জিয়ার সার্বিক অবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন: ম্যাডাম স্বাভাবিক আছেন; ভালো আছেন। তবে তার শরীরের অবস্থা ভালো না। জেলকোড অনুযায়ী তিনি ডিভিশন পান। তিনি যেহেতু তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সিনিয়র নাগরিক, তাই তার এ সুবিধা পাওয়া উচিত।

তিনি  আরও বলেন: গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, সরকার বলেছে, ম্যাডামকে তার গৃহপরিচারিকা ও ডিভিশন দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা আজ দেখে এসেছি, এসব মিথ্যা। তাকে একটা নির্জন ভাঙা বাড়িতে রাখা হয়েছে। উনার খাবারের ক্ষেত্রেও কোনও পরিবর্তন নেই। সাধারণ বন্দিরা যে খাবার পান, তাকেও সেই খাবার দেয়া হচ্ছে। ম্যাডাম এসব খাবারে অভ্যস্ত না।

এর আগে বিকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে আইনজীবীদের একটি দল কারা ফটকে পৌঁছান। অন্য আইনজীবীরা হলেন- ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট আবদুর রেজাক খান।

তারা কারা ফটকে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।

আইনজীবীরা কারা ফটকের সামনে চেকপোস্টে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার আবেদনপত্রটি জমা দেন। এর কিছুক্ষণ পর কারা কর্মকর্তা তাদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেন।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।

এছাড়া একই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

রায়ের পর পরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের লালদালানখ্যাত ২২৮ বছরের পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরান কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এ পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া। সূত্র: যুগান্তর।

About superadmin

Check Also

মত প্রকাশের সুযোগ যতো কমে গুজব ততো ছড়ায়: পেন ইন্টারন্যাশনাল

‘আইয়ুব খান ও এরশাদের সময় মানুষ বিবিসি’র খবর বেশি শুনতো’ মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *