Breaking News
Home / জাতীয় / রাজনৈতিক সংকট ঘণীভূত হচ্ছে

রাজনৈতিক সংকট ঘণীভূত হচ্ছে

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গন। এতে বিপরীতমুখী অবস্থানে দেশের বড় দু’ দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তাদের মাঝে দূরত্ব আরও বেড়ে চলেছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে, দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’ দলের মাঝে সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা এ মুহূর্তে নেই। তবে বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা আগামী সপ্তাহে কিছুটা ইঙ্গিত মিলবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার বিরুদ্ধে আদালত আপিল গ্রহণ করেন কিনা কিংবা তাকে দ্রুত জামিন দেন কিনা, এর ওপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা নতুন মোড় নেবে। তাদের আশঙ্কা- আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় না এলে দেশ আবারও গভীর সংকটে পড়তে পারে। তাই দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে বড় দু’ দলকে এক টেবিলে বসার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।

কয়েক মাস আগেও সরকার ও মাঠের বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড অনেকটা ইতিবাচক মনে হয়েছে। বিএনপিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি সেই ইঙ্গিতই বহন করেছিলো। দু’ দলের দূরত্ব কমার একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল সবার মাঝে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ ধরে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গণ গ্রেফতার করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও গ্রেফতার থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। সবশেষ ৮ই ফেব্রুয়ারি আদালতের রায়ে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ রায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ। পাশাপাশি রায়কে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থানে সরকার। বিএনপিকে কোনো সুযোগ দিতে চাচ্ছে না তারা। রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে দল দু’টির নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলো। অনেক জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। দু’ দলের সিনিয়র নেতারাও এ ইস্যুতে বাকযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে দু’ দলের দূরত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন: দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ছিলো। খালেদা জিয়ার সাজা এ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন তা আরও ভয়াবহ মাত্রা ধারণ করেছে। আমরা যদি এ পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তবে আমাদের পরিণতিটা মঙ্গল নাও হতে পারে। আমাদের সবাইকে নকআউট মার্চ থেকে সরে আসতে হবে। কারণ, এটার পরিণতি শুভ হবে না। অতীতে শুভ হয়নি। এখন নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। এটা আরও অশুভ হবে।

বিদ্যমান সংকট নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলোকে এক টেবিলে বসার পরামর্শ দেন এ বিশ্লেষক।

সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজউদ্দীন খান বলেন: বর্তমানে রাজনৈতিক সংকট তো আছেই। খালেদা জিয়ার সাজা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এ সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। রাজনৈতিক সংকট সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেই। দ্রুত সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছি না। এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না – পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে। আদালত খোলার পর খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণ ও জামিন হয় কিনা, সেটা দেখে আরও স্পষ্ট বোঝা যাবে। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় চলে গেলেও ইস্যুটি অনেকটা রাজনৈতিক। তাই, রাজনৈতিকভাবে এ সংকট উত্তরণে দলগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বর্তমান সংকট মোকাবেলা করতে হবে। এ সংকট উত্তরণে কোনো উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন: বিএনপির চেয়ারপারসনের রায়কে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের গণ গ্রেফতার ও তাকে কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনা আদালতের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপিসহ অনেকেই মনে করছে, সরকার প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে এসব করছে। যেখানে আগামী নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হবে, তা নিয়ে দু’ দলের মাঝে এখনও কোনো সমঝোতা হয়নি – সেখানে গ্রেফতার ও কারাদণ্ডের বিষয়টি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর ফলে চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হবে। দল দুটির মধ্যে আবারও বিপরীতমুখী অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। এটা কাম্য নয়। নির্বাচন নিয়ে তাদের অবশ্যই ঐকমত্যে আসতে হবে। এ জন্য যত দ্রুত সম্ভব – রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসতে হবে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকটের একটি সমাধান বের করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সমাধানে না এলে দেশ আবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্য পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বড় দু’ দল এক টেবিলে বসলে একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন এ বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী। সূত্র: যুগান্তর।

About superadmin

Check Also

ভারতের দ্য স্টেটসম্যানের সম্পাদকীয়: বেগম যখন জেলে

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *