Home / জাতীয় / রায়ের সার্টিফায়েড কপি মেলেনি মঙ্গলবারেও

রায়ের সার্টিফায়েড কপি মেলেনি মঙ্গলবারেও

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের সার্টিফায়েড কপি মঙ্গলবারও পাননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। তবে আজ (বুধবার) তা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করে তারা বলেন: আদালত সার্টিফায়েড কপি সরবরাহ করলেই বৃহস্পতিবার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল এবং খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হবে।

দুর্নীতির মামলায় সাজপ্রাপ্ত হয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। চলতি মাসের ৮ তারিখে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাঁকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর কারাবন্দি হিসেবে বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে কারা ফটকে সাংবাদিকদের খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন: আমরা এখনও রায়ের কপি পাইনি। আদালত থেকে বলা হয়েছে রায়ের কপি আগামীকাল (বুধবার) সরবরাহ করা হবে। বিশেষ জজ আদালত-৫ এই কপি সরবরাহ করবেন। এজন্য আমাদের আর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আসতে হবে না। আমরা যদি কাল (বুধবার) রায়ের কপি পাই, তাহলে পরের দিন (বৃহস্পতিবার) আপিল করতে পারবো। আপিল করার পর যদি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কাস্টডি ওয়ারেন্ট (সিডব্লিউ) বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (পিডব্লিউ) দেয়া হয়, তখন আমরা আদালতে সেগুলো প্রত্যাহারের আবেদন করবো। কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কাস্টডি ওয়ারেন্ট বা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট কিছুই নেই। এমন কোনো ওয়ারেন্ট তাদের কাছে আসেনি। আমরা ওকালতনামায় সই নেয়ার জন্য কারাগারে এসেছিলাম। তবে কাস্টডি ওয়ারেন্ট কারাগারে না আসায় সেটা জেল সুপারের কাছে রেখে এসেছি।

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় পুরান ঢাকার কারাগারের সামনে আসেন সানাউল্লাহ মিয়াসহ চার আইনজীবী। পরে সেখান থেকে তারা যান কারা অধিদফতরে। তখন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন: কিছু কাগজপত্রে ম্যাডামের সই লাগবে। এ কাজেই এসেছি। বেরিয়ে এসে আপনাদের সঙ্গে কথা বলবো।

প্রায় ৪৫ মিনিট পর তারা কারা অধিদফতর থেকে ফিরে এসে কারাগারের মূল ফটকে অপেক্ষা করেতে থাকেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না মেলায় বেলা ৩টার দিকে ফিরে যান। সানাউল্লাহ মিয়া জানান, তারা কিছু ওকালতনামা এনেছিলেন। খালেদা জিয়ার সইয়ের জন্য সেগুলো কারা কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ এগুলো গ্রহণ করেছে। তারা বলেছে, এগুলোতে স্বাক্ষর নিয়ে পরে আমাদের ফেরত দেবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ মিয়া বলেন: খালেদা জিয়াকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর যে খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তা সঠিক নয়। আমরা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে জানতে চেয়েছি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে, তা আসলে ঠিক কিনা? তারা আমাদের জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে সে রকম কোনো অর্ডার আসেনি। সামনে গ্যাটকো, বড়পুকুরিয়াসহ তিনটি মামলায় খালেদা জিয়ার হাজিরার তারিখ রয়েছে। তবে এই মামলাগুলোতে খালেদা জিয়াকে নিজে উপস্থিত থাকতে হবে না। আইনজীবীর মাধ্যমেই তিনি হাজিরা দিতে পারবেন।

কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন: খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তিনটি ওকালতনামা নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলো গ্রহণ করে ভেতরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফায়েড কপি পেতে খালেদা জিয়ার তরফ থেকে তিন হাজার পৃষ্ঠার কোর্টফলিও দাখিল করা হয়েছে। ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আদালতের অনুলিপি শাখায় খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা এ কোর্টফলিও দাখিল করেন। তাতে রায়ের অনুলিপি সরবরাহ করা হবে। এরও আগে রোববার জেলকোড অনুসারে খালেদা জিয়াকে ডিভিশন দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে আদেশ দেন আদালত। এরপরই খালেদা জিয়াকে ডিভিশন সুবিধা দেয়া হয়। একই দিন কাজের মেয়ে ফাতেমা রাখার আবেদনও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়। এছাড়া, ঐ দিন দুদকের পক্ষ থেকে রায়ের সার্টিফাইড কপির জন্যও আবেদন করা হয়। রায়ে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর মতো কোনো উপাদান থাকলে, দুদক তার সাজা বাড়াতে আবেদন করবে বলে জানায় দুদক প্রসিকিউশন।

এদিকে খালেদা জিয়া যেখানে বন্দি, নাজিমুদ্দিন রোডের সেই পুরনো কারাগার প্রাঙ্গণে মঙ্গলবারও ছুটে গেছেন দলের নেতাকর্মীরা। তবে আগে থেকে কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেয়ায় তাদের কেউই দেখা করতে পারেননি বেগম জিয়ার সঙ্গে। এদিকে কারাগারের আশপাশে নিরাপত্তা স্বাভাবিক রয়েছে। খুলেছে আশপাশের দোকানপাটও।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে মঙ্গলবার দুপুরে কারা ফটকে গিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। আগে থেকে অনুমতি নিয়ে না আসায় তাকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হয়নি। ফলে কারা ফটক থেকে তাকে ফিরে যেতে হয়। যাওয়ার আগে আফরোজা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন: মা (খালেদা জিয়া) কারাগারে কেমন আছেন? কোনো যোগাযোগ করতে পারছি না। আমাদের যেতে দেয়া হলো না।

কারাবন্দি বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষের আনুমতির প্রয়োজন। অনুমতি নিয়েছেন কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে আফরোজা আব্বাস বলেন: অনুমতি নিয়ে আসিনি। পরে অনুমতি নিয়ে আসবো। এর আগে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ ২০-২৫ জন নারীকর্মী নিয়ে কারা ফটকে আসেন সভাপতি আফরোজা আব্বাস। তাদের হাতে ছিল ৩টি ফলের ঝুড়ি। এতে ছিল এক ডজন সফেদা, আপেল, আঙ্গুর, নাশপতি। আফরোজা আব্বাসের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে কারাগারের মূল ফটকের সামনে পৌঁছান নেত্রীরা। পুলিশ তাদের আটকে দেয়। ফিরিয়ে দেয় ফল। প্রায় ২ মিনিটের মতো পুলিশের সঙ্গে কথাবার্তা বলে তারা ফিরে যান।

এছাড়া, কারাগারে বন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে দেখা করতে চেয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষক। কিন্তু তাদের সাক্ষাতের অনুমতি মেলেনি। তাদের মাঝে ছিলেন অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক সাবরিনা শাহনাজ, অধ্যাপক শামীমা রহিম ও অধ্যাপক ড. ফরহাদ হালিম ডোনার। অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন: আমরা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের যেতে দেয়নি। তারা বলেন যে অনুমতি নিতে হবে। আমরা কারাফটকে আবেদন দিতে চাইলে তারা বলেন, এভাবে আবেদন করলে হবে না, আইজি প্রিজনের কাছে আবেদন করে অনুমতি নিতে হবে। ফলে, একপর্যায়ে আমাদেরকে ফেরত আসতে হয়েছে।

দোকানপাট খুলেছে: পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারের আশপাশে দোকানপাট ৫ দিন ধরে বন্ধ ছিলো। মঙ্গলবার কয়েকটি দোকান খুলেছে। কারাগার এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেড রয়েছে। কারাগারের সামনের রাস্তা দিয়ে লোকজনকে চলাচলের সুযোগ দেয়া হলেও কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হয়নি। তবে ওখানকার বাসিন্দাদের তল্লাশির পর যেতে দেয়া হচ্ছে।

চলতি মাসের ৮ তারিখে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ৫ আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং প্রত্যেকের ২ কোটি ১০ লাখ টাকা করে জারিমানা করেন আদালত। সূত্র: যুগান্তর।

About superadmin

Check Also

অব্যাহত আটক-নির্যাতনে জনমনে ক্ষোভ বেড়েই চলেছে

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেয়ার অভিযোগে প্রায় প্রতিদনই দেশের কোথাও না ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *