Breaking News
Home / বিনোদন / চরম অসুখী ছিলেন শ্রীদেবী: রামগোপাল বর্মা

চরম অসুখী ছিলেন শ্রীদেবী: রামগোপাল বর্মা

পরিচালক রামগোপাল বর্মা বলেন: ব্যক্তিগত জীবনে চরম অসুখী ছিলেন! সাদা চোখে যা দেখা যায়, তার থেকে বাস্তব জীবন কতোটা বিপরীত হতে পারে, তার চরম দৃষ্টান্ত ছিলেন শ্রীদেবী।

এক খোলা চিঠিতে এ নায়িকার অকাল মৃত্যুতে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন: অনেকের কাছেই শ্রীদেবী ছিলেন একেবারে পারফেক্ট। সুন্দর মুখ, দুরন্ত প্রতিভা, সুখী সংসারে থিতু – দু’টি ফুটফুটে মেয়ের মা। বাইরে থেকে সব কতো ঈর্ষাজনক, লোভনীয় মনে হতো। কিন্তু শ্রীদেবী কি ব্যক্তিগতজীবনে সত্যিই সুখী ছিলেন?

গ্রেট রবারি, গোবিন্দা… গোবিন্দা, হয়রান – এর মতো পর পর ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন রামগোপাল বর্মা ও শ্রীদেবী। তেলেগু ছবি ‘ক্ষণ ক্ষণম’ – এর সেটে তার সঙ্গে প্রথম আলাপ হয় তার।

এ পরিচালক লিখেছেন: বাবা বেঁচে থাকতে শ্রীদেবীর জীবন ছিলো মুক্ত বিহঙ্গের মতো। তার মৃত্যুর পর, মায়ের হাতে পড়ে খাঁচায় বন্দী পাখীর দশা হয়েছিল তার। সব কিছুতেই মায়ের কড়া নজর থাকতো …। বনি কাপুরকে যখন বিয়ে করেছিলেন শ্রীদেবী, তখন তিনি প্রায় কপর্দকশূন্য। বনির অবস্থাও তখন বেশ খারাপ। টাকা-পয়সা নেই বললেই চলে। মায়ের মৃত্যুর পর অভিনেত্রীর একমাত্র বোন শ্রীলতা বাড়ী থেকে পালিয়ে তার প্রতিবেশীকে বিয়ে করেন এবং সম্পত্তির ভাগ দাবি করেন; যদিও সম্পত্তির সবই ছিলো শ্রীদেবীর কষ্টার্জিত উপার্জন। তার মা তাকেই সব দিয়ে গিয়েছিলেন…। সারা দেশের নয়নমণি ছিলেন তিনি। অথচ কঠিন সেই সময়ে এক বনিকে ছাড়া কাউকেই পাশে পাননি শ্রীদেবী। স্ত্রী নামি সাংবাদিক মোনা শৌরিকে তালাক দিয়ে ১৯৯৬–এ শ্রীদেবীকে বিয়ে করেন বনি। এক পাঁচতারকা হোটেলে সন্তানসম্ভবা অভিনেত্রীর (শ্রীদেবীর) পেটে লাথি মেরেছিলেন বনির মা (শাশুড়ি)! বউমা মোনার ঘরভাঙার জন্য তাকে দায়ী করেছিলেন। সারাজীবন দুঃখকষ্টই পেয়েছেন শ্রীদেবী। শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয়ে আসা। স্বাভাবিক জীবনের স্বাদই পাননি। ফলে, গভীর অসুখী ছিলেন। অন্তরের ব্যথা ঢাকতে নিজেকে বাইরে থেকে বেশি সুন্দর রাখতে খুবই উদ্যোগী ছিলেন শ্রীদেবী। খুব লাজুক ছিলেন শ্রীদেবী। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। আত্মবিশ্বাস বলে কিছুই ছিলো না। আর সব সময় আতঙ্কে থাকতেন – পাছে কেউ তার মনের অবস্থা বুঝে ফেলেন! তাই, একটা অদৃশ্য দেয়াল তুলে রাখতেন, যা সহজে ভেদ করা যেতো না। নিজস্ব মতামত ছিলো না বলেই কখনও বাবা–মায়ের, কখনও আত্মীয়স্বজন, স্বামী- এমনকি সন্তানদের ইচ্ছেতেও সায় দিতে হতো। একেবারে শিশু বয়সে খ্যাতি পাওয়ায় স্বাধীনচেতা হওয়ার সুযোগ ঘটেনি; যা ইচ্ছে তাই করার সাহস হয়নি। তাই ক্যামেরার সামনেই শুধু নয়, পেছনেও মেকআপ করে থাকতেন শ্রীদেবী। মনের অবস্থা ঢাকার একটা চেষ্টা করতেন। একই সঙ্গে অন্য অভিনেত্রীর মতো বয়স বাড়া তাকেও বিচলিত করতো। বয়স ঢাকার জন্য অনেক অস্ত্রোপচারও করতেন। বহু বছর ধরে করেছেন। তা দেখেই অনুমান করা যেতো। তবে কোনো কিছুই তার বেদনা ঢাকতে পারেনি। তার চোখে বেদনা দেখা যেতো। ব্যক্তিগতজীবনে বারবার আঘাতে জেরবার হয়ে সহজে বিশ্বাস করতে পারতেন না।

পরিচালক লিখেছেন: অনেক পরিচিতের মতোই বাথটাবে ডুবে শ্রীদেবীর মৃত্যুর ঘটনাকে বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। তার অনুমান, এর পেছনে অবসাদের ওষুধ আছে! অবসাদে অনেকে আত্মহত্যা করেন। অনেকে অবসাদ মেটাতে কাঁড়ি–কাঁড়ি ওষুধ খান। বোঝেনও নাকি মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে! সূত্র: যুগান্তর।

About superadmin

Check Also

ভারতীয় মন্ত্রীর বোনকে নিয়ে পালালো বাংলাদেশী যুবক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী এস পি সিং বাঘেলের বোনকে নিয়ে উধাও হয়েছে বাংলাদেশী এক যুবক। প্রেমের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *