Breaking News
Home / ইতিহাস / মহানবীর (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ৪৩তম বংশধর রাণী ২য় এলিজাবেথ!

মহানবীর (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ৪৩তম বংশধর রাণী ২য় এলিজাবেথ!

বতর্মানে মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশধর কেউ বেঁচে আছেন কিনা, তা নিয়ে বেশ তর্ক বিতর্ক হয়ে থাকে। কিন্তু নতুন আরেকটা ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রে আসছে। কয়েক বছর ধরে গবেষণা করে ঐতিহাসিকগণ দাবি করছেন যে, বৃটেনের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মহানবীর ৪৩তম বংশধর!

১৯৮৬ সালে প্রথম ব্রিটেনের রাজপরিবারের পূর্বপুরুষদের অস্তিত্ব ও জিন নিয়ে কাজ করা প্রকাশনা সংস্থা বুর্খে পেরেজ এ দাবি উত্থাপিত করে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মাঝে বির্তক সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি মরক্কোর একটি গণমাধ্যম রাণীর সঙ্গে হযরত মুহম্মদের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরসূরী হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করে জানায়, মধ্যযুগীয় ম্পেনে মুর যুগের জিনতত্ত্ব বুর্খে প্রকাশনার দাবিকেই সমর্থন করে।
মরক্কোর গণমাধ্যমের সূত্র ধরে ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, রাণী এলিজাবেথ তৎকালীন স্পেনের সেভেলির মুসলিম শাসকের বংশধর। এতে দেখা যায়, উমাইয়া আমলে স্পেনে মুরদের আক্রমণের পর, রাজা আবু আল কাসিম মোহাম্মদ ইবন আবাদ স্পেনের শহর সেভেলিতে শাসক (১০২৩ খৃষ্টাব্দ) হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। আবু আল কাসিম ছিলেন হযরত মুহম্মদের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাতি ইমাম হাসান বিন আলির (রাদ্বিআল্লাহু আনহু) ১১শ বংশধর। ১৩৭৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করা রির্চাড অব কেনিসবুর্গ (আর্ল অব কেমব্রিজ ‘তৃতীয়’) ছিলেন আবু আল কাসিমের ১২তম বংশধর। তার নাতি চতুর্থ এডওয়ার্ড ছিলেন ইংল্যান্ডের রাজা। এডওয়ার্ডের অষ্টম বংশধর ছিলেন গ্রেট বৃটেনের রাজা প্রথম জর্জ। আর প্রথম জর্জের দশম উত্তরসূরীই রাণী এলিজাবেথ। মূলত ইমাম হাসানের রক্ত পর্তুগাল ও কাস্তিল ইউরোপীয় রাজাদের সূত্র ধরে বৃটিশ রাণীর কাছে এসেছে।

মিশরের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আলি গোমাও রাণীর সঙ্গে হযরত মুহম্মদের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংশ্লিষ্টতার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে বুর্খে পেরেজ-এর নির্বাহী প্রকাশকের একটি তথ্যের ভিত্তিতে বৃটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার ১৯৮৬ সালে রাজপরিবারের নিরাপত্তা বৃদ্ধি জোরদার করেন। থ্যাচারের কাছে তিনি লিখেছিলেন যে, নবী মুহম্মদের সঙ্গে রাজপরিবারের সরাসরি সম্পৃক্ততা তাদের মুসলিম সন্ত্রাসীদের থেকে নিরাপদে রাখবে না। এ সংযোগ অত্যন্ত আশ্চর্যজনক একটি বিষয়। মুহম্মদের রক্ত রাণীর ভেতরে প্রবাহিত – এটি খুব কম বৃটিশ নাগরিকই জানেন; যদিও সব মুসলিম ধর্মীয় নেতা এ বিষয়ে গর্ব বোধ করবেন।

বুর্খে পেরেজের দাবি অনূসারে, রাণীর রক্ত আসলে মুসলিম রাজকন্যা জাইদার থেকে এসেছে। জাইদা ১১শ শতকে নিজের শহর সেভেল থেকে পালিয়ে খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। জাইদা ছিলেন সেনকোর পূর্বসূরী। এ সেনেকোর উত্তরসূরীই আর্ল অব কেমব্রিজকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য স্পেকটেটর বলছে, জাইদার বংশানুক্রম সন্দেহপূর্ণ। কোন ইতিহাসবিদের মতে, তিনি মদ্যপানে আসক্ত রাজা আল মুতাবিদ ইবন আবাদের মেয়ে ছিলেন। মুতাবিদ, মোহাম্মদ- ইবন আবাদের নাতি ছিলেন। আবার কারো মতে, জাইদা ঐ পরিবারে বিয়ে করেছিলেন।

মরক্কোর আলেম আবদুল হামদ আল-আউউনি সেদেশের একটি পত্রিকায় এ খবরটিকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, এটা আমাদের দু’ ধর্ম ও রাজ্যের মাঝে একটি সেতু বন্ধন তৈরি করে। তবে সউদীর কয়েকজন ব্যক্তি এ বিষয়ে বলেন যে, এটা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার জন্য খৃষ্টানদের একটি প্রচারণা ছাড়া আর কিছুই না।

বাংলাদেশের কয়েকজন বিশিষ্ট আলেমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বললে, শোলাকিয়া ঈদগাহের গ্র্যান্ড ইমাম, ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ বলেন: বংশগতভাবে তিনি নবী কারিমের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশের হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমরা এ বিষয়ে গবেষকদের আলোচিত বংশধারা যাচাই করে বুঝতে পারবো বিষয়ের সত্যতা কতোটুকু। রানীর বংশ জার্মান থেকে এসেছে। রাসুলের বংশের সঙ্গে মিললে আশ্চর্যের কিছু না। আর জাইদা বিবির কথা বলা হয়েছে। তিনি আসলেই ইসলাম ধর্ম থেকে খৃষ্টধর্মে গিয়েছেন কী না, তা আমরা ইতিহাস থেকে যাচাই করেই বলতে পারবো।

রাজধানী ঢাকার জামিয়া শায়খ জাকারিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট বক্তা, লেখক গবেষক, মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ বলেন: ইউরোপীয় গবেষকরা ইতিহাস ঘেঁটে বের করেছে রানী এলিজাবেথ রাসুরে (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বংশের। হাঁ, এমন হতে পারে অস্বাভাবিক কিছুই না। তবে আমরা বিষয়টা পর্যলোচনা না করে কিছু বলতে পারছি না। ইতিহাস অনেক বড় বিষয়। এটা নিয়ে পাঠ প্রয়োজন।

ইউরোপিয়ান গবেষকদের লেখা বংশধারা: হযরত মুহম্মদের (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মেয়ে (ফাতেমা রাদ্বিআল্লাহু আনহা) সন্তান হাসান ইবনে আলী, হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী, জহরা বিনতে হুসেনের ছেলে নউম আল-লখমী, তার ছেলে তায়ফ ইবনে নাঈম, ইত্তফ ইবনে নায়িমের ছেলে আসলান ইবনে আওয়ামী। আমির ইবনে আসলানের ছেলে ইশতিয়াক ইবনে আমর, তার ছেলে আব্বাস ইবনে আমর, তার ছেলে কোরেস ইবনে আব্বাস ইবনে আবু আল কাসিম মোহাম্মদ ইবনে আব্বাস সেভিলের রাজা।

আব্বাস দ্বিতীয় আল মুত্তাদ্দিদ, তার ছেলে আল মুয়াতামিদ ইবনে আব্বাস আল-মু’তামীদের মেয়ে জায়দা। জায়দার ছেলে সানচো অ্যালফোন্সজ, এখান থেকে খৃষ্ট বংশধারা শুরু হয়ে মিলিত হয়েছে ইংল্যান্ডের রাজা হ্যানওভার আয়ারল্যান্ডের মেয়ে স্কট মেরী রাণী (১৫৪২-১৫৮৭) জেমস ভি, স্কট অফ দ্য স্কট এর মেয়ে, জর্জ গ্রেট বৃটেনের রাজা সোফিয়ার ইলেক্ট্রেস হ্যানোভার ও জর্জ দ্বিতীয় বৃটেনের জর্জ আই কিং ও ফ্রেডেরিকের বংশ হয়ে প্রিন্স অফ ওয়েলসের ছেলে জর্জ দ্বিতীয় ফ্রেডরিকের ছেলে হয়ে মিলিত হয় বৃটেনের সপ্তম রাজা এডওয়ার্ডের  সঙ্গে। এরপর তার বংশধর ভিক্টোরিয়া জর্জ ভি’র বংশ ঘুরে যুক্তরাজ্যের রাণীর বংশের সঙ্গে মিলিত হয়। সূত্র : ওয়েবসাইট ও ইনকিলাব।

About superadmin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *