Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

শিক্ষিত রোহিঙ্গাদের হত্যা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলমানেরা বলেছেন: মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ভেতর থেকে শিক্ষিত লোকদের বেছে বেছে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। রোহিঙ্গাদের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যাতে কেউ না থাকে, সে লক্ষ্যেই এ কাজ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অন্তত এক ডজন রোহিঙ্গা শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও বয়োজ্যেষ্ঠ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে আসা মোহাম্মদ হাশিম তার ভাইকে জীবিত অবস্থায় শেষবার যখন দেখেছিলেন, তখন তার হাত দু’টো পেছন থেকে বাঁধা ছিলো। সে বার বার বলছিলো: আমি শিক্ষক! আমি শিক্ষক! আমার পরিচয়পত্র রয়েছে। এভাবেই মিয়ানমারের সেনাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলেও তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই ভাইয়ের আর কোনো খবর জানেন না হাশিম।

হাশিম ছড়াও রাখাই রাজ্য থেকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে এমন অন্তত এক ডজন শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সাক্ষাৎকার নিয়েছে বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। তারা প্রায় সবাই বলেছেন: শিক্ষিত লোকদেরকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নির্যাতনের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠরোধ করে দিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এ কাজ করেছে।

আমেরিকা ভিত্তিক সোয়াহ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ডিরেক্টর কারেন জাংব্লাট গণহত্যার এ চিরায়ত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেন: সবার গল্পগুলো প্রায় একই রকম। যাদের ওপর গণহত্যা চালানো হয় – প্রথমে তাদের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক নেতাদের আলাদা করে, সবাইকে কোণঠাসা করা হয়।

সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনেও প্রায় একই চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের মাঝে শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নেতাসহ প্রভাবশালীদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলো মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। রোহিঙ্গা ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জ্ঞান ধ্বংস করতে তারা এটা করেছে।

গত বছর ২৫শে আগস্ট মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আরসা’র কথিত হামলার পর, রাখাইনের মং নু গ্রামে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঘটনার পর, শিক্ষকদের খুঁজতে ঐ গ্রামে আসে একদল সেনা।

২৬ বছর বয়সী রহিম বলেন: স্থানীয়ভাবে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক ছিলেন তিনি। এর সুবাদে অনেক সেনার সন্তান তার ছাত্র। সেনারাও তাকে চিনতেন। কিন্তু গ্রামে সেনাবাহিনীকে আসতে দেখেই তিনি পালিয়ে যান। ‘আমি জানতাম ধরা পড়লেই ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে খুঁজতেই ওরা গ্রামে এসেছিলো। ওরা জানতো যে, আমাকে শেষ করে দিতে পারলে গ্রামের অন্য রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে। পার্সটুডে।

About superadmin

Check Also

ট্রাম্প কর বাড়ানোয় কী বললেন এরদোগান-পুতিন?

তুরস্কের দু’ পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এখন থেকে তুরস্কের আমদানি করা অ্যালুমিনিয়াম ও ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *