Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / অভ্যুত্থানের খবর শুনে ওজু করে নামাজ পড়েন এরদোগান

অভ্যুত্থানের খবর শুনে ওজু করে নামাজ পড়েন এরদোগান

২০১৬ সালে তুর্কি রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে উৎখাতের চেষ্টার দু’ বছর পালিত হয়েছে গতকাল ১৫ই জুলাই (রোববার)। এ উপলক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তুর্কি দূতাবাসে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ব্যর্থ অভ্যুত্থান উলক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যম বিশেষ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল-জাজিরাও বেশ কয়েকটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়া ডেইলি সাবাহ, ইয়ানি শাফাক ও তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আনাদলু এজেন্সি বেশ কিছু বিশেষ প্রতিদেবন প্রকাশ করেছে।

ডেইলি সাবাহ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থান শুরু আগেই খবর পান এরদোগান। কিন্তু তার মাঝে কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। অত্যন্ত শান্তভাবে তিনি পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন। তিনি যখন অভ্যুত্থান শুরুর খবর পান – তখন তিনি দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের মারমারায় অবকাশ যাপন করছিলেন। সেখানেই তাকে হত্যা কিংবা বন্দী করতে ৩টি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিলো। অভ্যুত্থানের খবর পেয়ে এরদোগান প্রথমেই ওজু করে নামাজ পড়ে নেন। এরপর তিনি দ্রুত ইস্তাম্বুলের পথে যাত্রা শুরু করেন। তখন তাঁর সঙ্গে তার স্ত্রী, মেয়ে, জামাই ও নাতি-নাতনিরা ছিলেন।

এরদোগানের মেয়ের জামাই বেরাত আলবেরাক শীর্ষস্থানীয় নিউজ নেটওয়ার্ক তুর্কোভাজ মিডিয়াকে অভ্যুত্থান-চেষ্টার সময়কার অবস্থা জানান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান পুরো রাত ছিলেন শান্ত ও সংযত। তিনি দ্রুত বিমানযোগে ইস্তাম্বুল ফিরতে চাচ্ছিলেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে নেতৃত্ব দেন। আমাদের ওপর দিয়ে ৩টি হেলিকপ্টার পর্যবেক্ষণমূলক টহলে ছিলো। আমরা একই সঙ্গে জাতীয় মিডিয়াগুলোতে ফোন করতে থাকি, কী ঘটেছে তা জানতে। আমরা ফোনের মাধ্যমেই কেবল সরাসরি সম্প্রচার করতে পেরেছিলাম।

আল-জাজিরা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে হত্যার জন্য তিনটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিলো। তবে তারা এরদোগানের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। হেলিকপ্টার তিনটি যখন অভিযানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে – তখন এরদোগান দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের মারমারায় অবকাশ যাপন করছিলেন। সেখানেই তাকে হত্যা কিংবা বন্দী করতে হেলিকপ্টারগুলো পাঠানো হয়েছিলো। অভ্যুত্থান চেষ্টার প্রক্রিয়া শুরু হবার এক ঘন্টা আগে দেশটির ফার্স্ট আর্মির কমান্ডার উমিত দান্দার এরদোগানকে অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার বিষয়টি জানাতে পেরেছিলেন। ঐ খবর পেয়ে এরদোগান নিজের নিরাপত্তার জন্য হোটেল ত্যাগ করেছিলেন। ফলে, বিদ্রোহী সেনারা ঐ হোটেলে পৌঁছে এরদোগানকে পাননি। এরদোগান হোটেল ত্যাগ করার কিছুক্ষণের ভেতরেই ৪০ জন বিদ্রোহী সেনা দ্রুত ঐ হোটেলে প্রবেশ করে। কিন্তু ইতোমধ্যে এরদোগান ইস্তাম্বুলের পথে রওয়ানা হয়ে যান। আর হোটেলেই থেকে যান প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষীরা। ফলে হোটেলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষীদের সংঘর্ষ হয়। আর তাতে বিদ্রোহী সেনারা পরাজিত হয়। দেহরক্ষীদের আক্রমনে বিদ্রোহীদের একটি হেলিকপ্টারও বিধ্বস্ত হয়। বিদ্রোহীরা পার্বত্য এলাকায় পালিয়ে জীবন বাঁচায়।

এদিকে অভ্যুত্থানচেষ্টার দু’ বছর পূর্তিতে টার্কিশ জেনারেল স্টাফের প্রেস অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স ডিপার্টমেন্ট একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে উৎখাতের ঐ ব্যর্থ চেষ্টায় ৮ হাজার ৬৫১ জন সেনা জড়িত ছিলো। এর মাঝে ১ হাজার ৬৭৬ জন সেনা অফিসারদের আদেশে অভ্যুত্থানে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মাঝে ১ হাজার ২১৪ জন ক্যাডেট।

তুরস্কের সামরিক বাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানচেষ্টায় জড়িতরা ফেতুল্লাহ গুলেনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সদস্য।

অভ্যুত্থানচেষ্টায় ৮টি হেলিকপ্টারসহ ও ৩৭টি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছিলো – যা দেশটির সামরিক বাহিনীর হাতে থাকা মোট হেলিকপ্টারের মাত্র ২ দশমিক ৭ ভাগ।

এছাড়া, ৭৪টি ট্যাংক ও ১৭২টি সাজোয়া যান ব্যবহৃত হয়েছিলো। বিদ্রোহীরা তিনটি জাহাজও ব্যবহার করেছিলো। অভ্যুত্থানে ২৪৬ বেসামরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়। ডেইলি সাবাহ।

About superadmin

Check Also

এরদোগান আবারো একে পার্টির চেয়ারম্যান হলেন

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ আবারো এরদোগান দেশটির ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *