Breaking News
Home / জাতীয় / ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকের

ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ দুদকের

বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে পানামা পেপারসে নাম আসা বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান রাজাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক আখতার হামিদ ভূঁঞার নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। হাসান মাহমুদ রাজা ছাড়া অন্য যে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তারা হলেন- ইউনাইটেড গ্রুপের আরেকটি প্রতিষ্ঠান মাল্টি ট্রেড মার্কেটিং লিমিটেডের পরিচালক খন্দকার মঈনুল আহসান, আহমেদ ইসমাইল হোসেন ও আকতার মাহমুদ। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ ছাড়াও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুদক থেকে বের হওয়ার পথে ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, পানামা পেপারসে তাদের কোনো নাম নেই। তার দাবি, এটা শুধুই হয়রানি। ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চক্রান্তে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ প্র সঙ্গে দুদকের সচিব মো. শামসুল বলেন: কাউকেই হয়রানি করা হচ্ছে না। দুদক কাউকে হয়রানি করে না; হয়রানি করার সুযোগও নেই। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ৮ই জুলাই হাসান মাহমুদ রাজাসহ ৭ জনকে দুদক থেকে তলব করে নোটিশ দেয়া হয়েছিলো।

ইউনাইটেড গ্রুপের এসব কর্মকর্তা ছাড়া আরও তিনজনকে আজ জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক। তারা হলেন – গুলশানের ইন্ট্রিডিপ গ্রুপের ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, বনানী ডিওএইচএসের সেলকন শিপিং কোম্পানির মাহতাবা রহমান ও উত্তরার ডব্লিউএমজি লিমিটেডের এরিক জনসন উইলসন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) ‘পানামা পেপারস’ নামে অন্তত ১ কোটি ১০ লাখ নথি ফাঁস করে। তাতে বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানসহ শতাধিক ক্ষমতাধর ব্যক্তি ও তাদের আত্মীয়স্বজনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সংবাদমাধ্যম এসব তথ্য প্রকাশ করে। কর ফাঁকি ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত সাড়া জাগানো পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারস কলেঙ্কারিতে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীসহ অন্তত ৮২ ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট আমলে নিয়ে ২০১৬ সালের এপ্রিলে অনুসন্ধানে নামে দুদক। উপপরিচালক আখতার হামিদ ভূঁঞাকে প্রধান করে তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- দুদকের সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান ও উপ-সহকারী পরিচালক রাফী মো. নাজমুস সাদাত। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

পানামা ও প্যারাডাইস পেপারসে উঠে আসা অর্থ পাচারের ঘটনা ছাড়াও নানাভাবে দেশ থেকে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটছে। দুদক সেদিকেও নজর রাখছে বলে জানিয়েছেন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯১১ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। স্থানীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৭২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। আমদানি-রফতানির সময়ে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন করার মাধ্যমেই এ অর্থের বড় অংশ পাচার করা হয়েছে। গত বছরের ২রা মে সংস্থাটির প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে দুদক থেকে এ অর্থ পাচারের অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়া হয়। সূত্র: দৈনিক যুগান্তর।

About superadmin

Check Also

গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি সুজনের

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী ও আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *