Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে দেবে তুরস্ক

সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে দেবে তুরস্ক

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে কৃষ্ণসাগরের তীরে দুর্গের মতো করে নতুন বিমানবন্দর তৈরি করা হচ্ছে। এমন সিম্বল দিয়ে এটি তৈরি করা হচ্ছে – যা তুর্কিদের খারাপ অধ্যায়কে ঢেকে দেবে এবং তুরস্কের উছমানীয় রাজকীয় ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ইচ্ছাকে প্রকাশ করবে।

ধারণা করা হচ্ছে প্রকল্পটির ব্যয় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হবে এবং এর জন্য ৬টি রানওয়ে নির্মাণ করা হবে – যা প্রায় ম্যানহাটন শহরের মত বড় হবে। এক দশকের ভেতরে এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। আশা করা হচ্ছে, তখন এটি বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মানুষের যাতায়াতের একটি ক্ষেত্রে পরিণত হবে – যা এই গ্রহের সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে দেবে।

বিমানবন্দরটি অত্যাধুনিক তুরস্কের রুচিশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উদ্বেগের বিশ্বে এরদোগানের তুরস্ককে নিরবিচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন।

বিমানবন্দরটির ১ম ধাপ অক্টোবরে উন্মুক্ত করা হবে। এটি জনসাধারণের মনে স্বস্তির কারণ হবে – যাদের টাকা এরদোগানের খুব কাছের নির্মাণ সংস্থাগুলির নিকট চলে গেছে। সরকার তাদের যে কোনো ক্ষতির বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা প্রদান করেছে। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন যে, জনসাধারণের অর্থের ব্যয় হ্রাস পেলে, বিমানবন্দরটি যাত্রী প্রবাহের চাইতেও মহৎ হিসেবে প্রমাণিত হবে।

এ নতুন বিমানবন্দরের জন্য যেসব গ্রামবাসী ভূমি দিয়েছেন – তাদের কাছে এ প্রকল্পটি ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে। বোরা দিলার নামে একজন কৃষক – যার ভূমি প্রকল্পটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে – তিনি জানান, এরদোগান তার নিজের লোকদেরকেই দেখছেন। আমাদের আর কিছুই হারানোর নেই।

সরকার বিশাল বিমান বন্দরের মত অবকাঠামোগত প্রকল্পে সহয়তা করেছে এবং ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে কৃষ্ণ সাগর ও মারমারা সাগরের মাঝে সংযোজক ২৮ মাইল দীর্ঘ খাল খনন করেছে। এসব অধিকাংশই বিদেশী মুদ্রায় ঋণ নেয়া – যার মানে লিরার (তুরস্কের মুদ্রা) মান অনুপাতে তাদের বোঝা আরো বেড়েছে।

তুরস্ক দাঁড়িয়ে আছে একটি অপ্রত্যাশিত স্বতন্ত্র ও অর্থনৈতিক ভিত্তির উপর – যা দিয়েছে গোঁড়ামিমুক্ত স্থিতিশীল অর্থনীতি। দু’ বছর আগে এরদেগানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য ব্যর্থ অভ্যুথানের পর থেকে এরদোগান ক্রমাগত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ক্রেডিট নোট খুলেছেন।

বিমানবন্দরটির কাছাকাছি ইয়েনিকোই নামক গ্রামটিতে এক রকম সঙ্কটের অনুভূতি তৈরী হয়েছে তখন থেকেই – যখন থেকে এরদোগান এটিকে বিশ্বের অন্যতম আকাশযাত্রার কেন্দ্র করার প্রকল্প হাতে নেন এবং একে লন্ডন ও দুবাই এর মতো শহর করার স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। ইস্তাম্বুল শহরটি ১৫ মিলিয়ন মানুষের এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াতের অন্যতম পথ। এর প্রাথমিক আতাতুর্ক বিমানবন্দরটি এতো সংখ্যক লোকজনের জন্য প্রয়োজন মেটাতে পারে না।

পৃথিবী পরিবর্তনকারীরা এখন কৃষ্ণ সাগরের পাশের ফ্যাকাশে মাটি ছিঁড়ে এতো বড় বিমানবন্দরটি নির্মাণ করবে।  বিমানবন্দরটি নির্মাণের জন্য রাষ্ট্র তাদের চারণ ভূমি অধিগ্রহণ করেছে – তাদেরকে পরিমিত ক্ষতিপূরণ দেয়ার মাধ্যমে। সূত্র: দৈনিক নয়াদিগন্ত।

About superadmin

Check Also

এরদোগান আবারো একে পার্টির চেয়ারম্যান হলেন

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ আবারো এরদোগান দেশটির ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *