Breaking News
Home / জাতীয় / সড়ক পরিবহন আইন শুভঙ্করের ফাঁকি: রিজভী

সড়ক পরিবহন আইন শুভঙ্করের ফাঁকি: রিজভী

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অবিরাম হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। সেই সাথে গতকাল মন্ত্রীসভায় অনুমোদন দেয়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ খসড়া আইনকে শুভঙ্করের ফাঁকি বলছে দলটি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আজ মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন। নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মো: মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন: গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর, সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগ সশস্ত্র অবস্থায় হামলা করেছে তা দেখে দেশের মানুষ হতভম্ব। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর ও নিষ্ঠুর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় বইছে। পুলিশ হলো আইনের রক্ষক। তাদের পাশে এসব অস্ত্রধারীরা। পুলিশ অস্ত্রধারীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে এমন দৃশ্য কি কোনো স্বাধীন দেশে চিন্তা করা যায়? এটা ভোটারবিহীন ও জবাবদিহী হানাদার সরকারের চরম নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্তে রঞ্জিত হলো শেখ হাসিনার হাত। শেখ হাসিনা তার গুন্ডাবাহিনীকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দিয়েছেন। গত পরশু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়েছে……..।’ আসলে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের উপর প্রচ্ছন্ন হুমকি। গতকাল দেশবাসী শেখ হাসিনার সোনার ছেলেদের সশস্ত্র আক্রমণ প্রমাণ করে দিয়েছে তার নির্দেশেই শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করা হয়েছে। রামপুরায় ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বসুন্ধরায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় সরকারি দলের হামলাকারীদের হিংস্রতা তীব্র রুপ ধারণ করেছে। গত পরশু ধানমন্ডিতে পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। অবৈধ ক্ষমতা প্রলম্বিত করার জন্যই এ সর্বনাশা সহিংস নীতি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার। কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতারণার কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে। এখন কি হচ্ছে, কোটা আন্দোলনকারীদের লাশ মিলছে নদীতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুম করা হচ্ছে। আবার গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে চালানো হচ্ছে অকথ্য নির্যাতন। ছাত্রলীগকে দিয়ে সশস্ত্র আক্রমণ করিয়ে রক্তাক্ত করা হচ্ছে, পঙ্গু করা হচ্ছে বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের। গতকাল তড়িঘড়ি করে মন্ত্রীপরিষদে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রীসভা। প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন র্দুবৃত্ত ও গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে। এটি একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। যদিও এ আইন আদৌ সংসদে পাস হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। এ আইন নিরাপদ সড়কের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এ আইন গণপরিবহনে নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আতঙ্কজনক, উদ্বেগজনক ও ভয়ঙ্কর ইঙ্গিতবাহী ছিলো। কিন্তু পুলিশ যে অস্ত্রধারীদের পাহারা দিয়ে ছাত্রদের দিকে গুলি করাচ্ছে, লাঠি পেটা করাচ্ছে তারা কি বিরোধী দলের লোক হতে পারে? এটা কি পাগলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। পুলিশ আর ছাত্রলীগ-যুবলীগ একাকার। এটা দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে ওঠেছে, আর মিথ্যাচার করে তাদের রক্ষা করতে চেষ্টা করছেন। মনে রাখবেন দেশ-বিদেশের মানুষ ও গণমাধ্যমের চোখ ঝাপসা হয়ে যায়নি। অস্ত্রধারী ছাত্রলীগের সোনার ছেলেদের নাম ধরে ধরে ছবি প্রকাশ হয়েছে। সুতরাং ছাত্রলীগের হাতে কিভাবে এ অস্ত্র আসল, কিভাবে তারা গুলি করলো, প্রধনমন্ত্রী দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন। তিনি তো গতকাল বলেছেন, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা হবে আর বলপ্রয়োগ না করে তাদেরকে চুমু খাবে ? সুতরাং বলপ্রয়োগ করার কথাতো আপনার সাধারণ সম্পাদকই বলেছেন। দলীয় ক্যাডাররা আপনাদের হুকুমই পালন করছে। বল প্রয়োগ ও চুমু খাওয়া দুটোই আতঙ্কজনক। তিনি ছাত্রলীগের রাম দা, পিস্তল, লোহার রড ও লাঠি দেখতে পান না। কিছু চতুষ্পদ প্রাণী আছে কালারব্লইন্ড, আর আওয়ামী সরকার হচ্ছে ক্ষমতাব্লইন্ড। ছাত্রলীগ-যুবলীগের অস্ত্রবাজরা-যাদের অনেকেই স্কুলের চৌকাঠ না ছুঁলেও হঠাৎ অর্থবিত্তে ফুলে ফেঁপে গডফাদারে পরিণত হয়েছে। তারা নির্দিধায় মাসুম স্কুল পড়–য়াদের ওপর আঘাত করতে ছাড়ছে না। তাদের হামলায় রক্তাক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের চিকিৎসা পর্যন্ত করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতালেও হামলা করা হয়েছে এবং ডাক্তারদের চিকিৎসা না দিতে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার উসকানির কথা বলে মামলা দিয়েছে বিএনপির মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের নামে। বিএনপি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে। সমর্থন দিয়েছে সকল রাজনৈতিক দলসহ সর্বস্তরের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সরকারের ভুল ধরিয়ে দিয়েছে। আপনারা তাদের সাধুবাদ জানালেন- এ কথা যদি উস্কানির পর্যায়ের না পড়ে তাহলে বিএনপি কোথায় উস্কানি দিল? কিন্তু মামলা দেওয়া হলো বিএনপি নেতাদের নামে। স্বভাবনিষ্ঠুর প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এর চেয়ে ভাল কিছু আশা করা যায় না। সরকারের নাশকতার মিশন আনসাকসেসফুল বলেই এখন ছাত্র-ছাত্রীদের প্রকাশ্যে হামলা করে রক্তাক্ত করার নীতি গ্রহন করা হয়েছে। ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকে গতকাল রোববার রাতে তাঁর ধানমন্ডির বাসা থেকে অপহরণ করে কয়েক ঘন্টা গুম রাখার পর গ্রেফতার দেখানো হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারিরীক নির্যাতন করা হয়। তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ ভোটারবিহীন অবৈধ সরকারের হাতে এখন আর কেউ নিরাপদ নয়। লেখক, সাংবাদিক, কলামিষ্ট, ছাত্র, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, নারী কিংবা শিশু কেউ নিরাপদ নয়। মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। গত পরশু ইলেকট্রনিকস মাধ্যমকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়েছে। ফেসবুকে কী স্ট্যাটাস দিল – পটুয়াখালীতে এক গর্ভবতী শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এর ওপর বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা অপপ্রচারের জন্য ক্ষমতাসীনদের ফেসবুকে বানোয়াট ভূয়া এবং কাল্পনিক তথ্য দিয়ে একের পর এক মিথ্যা পোষ্ট দেওয়া হচ্ছে। আপনারা দেখবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আমার নামে ইসলামী ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা আছে। এ অদ্ভূত এবং হাস্যকর তথ্যের জন্য ফেসবুকে পোষ্ট প্রদানকারীকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার দেওয়া উচিৎ। আসলে ভীত ও নার্ভাস হয়ে সর্বগ্রাসী ক্ষমতাকে ধরে রাখতে সরকার নানা ধরনের নোংরা চাতুরির আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে।

বিএনপির পক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন: দৃঢ়ভাবে বলতে চাই হামলাকারী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের শাস্তি পেতেই হবে। বাংলাদেশের কিশোর তরুণ আত্মবিশ্বাসের সাথে অন্যায়ের মোকবিলা করছে। সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ২শ বছরের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন কখনই ব্যর্থ হয়নি। আন্দোলনরত এ স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের আন্দোলনও ব্যর্থ হবে না। সুত্র: নয়া দিগন্ত।

About superadmin

Check Also

গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তি দাবি সুজনের

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী ও আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করার ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *