Breaking News
Home / আন্তর্জাতিক / ইমরান খানের সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা!

ইমরান খানের সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা!

২৫শে জুলাই অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ইমরান খান যে ৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে তার সব কটিতেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গতকাল (মঙ্গলবার) গেজেট আকারে প্রকাশিত সরকারি ফলাফলে এর মাঝে ২টি আসনের ফলাফল স্থগিত করেছে কমিশন! বাকি ৩ আসনে ইমরানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তাও আবার শর্তযুক্ত।

ইমরান দলীয়ভাবে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত হওয়ার একদিনের মাথায় নির্বাচন কমিশনের এ ঘোষণা এলো। ফলে. তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পরিকল্পনাটি জটিলতার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চাইলে, একটি দলকে ২৭০টি আসনের মাঝে ১৩৭টি আসন পেতে হয়। সে সংখ্যা থেকে ইমরানের দল ২১টি আসনে পিছিয়ে ছিলো। এ অবস্থায় ছোট ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে জোট সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় পিটিআই। আর জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে সোমবার (৬ই আগস্ট ২০১৮) ইমরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করে পিটিআই।

তবে খানিক বিপত্তি তৈরি হয়েছে, মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করার পর। মঙ্গলবার পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন সরকারিভাবে সাধারণ নির্বাচন ও প্রাদেশিক নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে। ২৫শে জুলাই অনুষ্ঠিত ঐ নির্বাচনে ইমরানের দল পিটিআই পেয়েছিলো ১১৬টি আসন। কিন্তু এখন তার আসন সংখ্যা কমে ১১২-তে দাঁড়িয়েছে!

১৪ ও ১৫ই আগস্ট ইমরানের শপথগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ছিলো। তবে মঙ্গলবার বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ৯টি জাতীয় ও ১৭টি প্রাদেশিক আসনের ফল স্থগিত রাখা হয়। ৯টি জাতীয় আসনে ফল স্থগিত করায় আসন সংখ্যার দিক দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী দল তেহরিক ই ইনসাফ পাকিস্তানের (পিটিআই) শক্তি খানিক কমে যাচ্ছে। আপাতত ইমরানের দলের আসন সংখ্যা ১১৬টি থেকে কমে ১১২টিতে দাঁড়াবে। আর তাদের মিত্র দল বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির আসন সংখ্যা চার থেকে কমে তিনে দাঁড়াবে।

ইমরান খান সাধারণ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং সবগুলো আসনেই বিজয়ী হয়েছেন। তবে মঙ্গলবার পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন এনএ-৫৩ (ইসলামাবাদ-২) ও এনএ-১৩১ (লাহোর-৯) আসনে ইমরানের বিজয় স্থগিত করে। কেননা, এ দু’ আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের মামলায় ইমরানের বিরুদ্ধে শুনানি চলছে। এনএ-৫৩ আসনে ইমরান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ খাকান আব্বাসীকে হারিয়েছেন। সেখানে ৯২,৮৯১টি ভোট পেয়েছেন ইমরান। আর পিএমএল-এন নেতা আব্বাসি পেয়েছেন ৪৪,৩১৪টি ভোট।

শুরুতে পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছিলো, নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ইমরানের ৫টি আসনের ফলাফলই স্থগিত করেছে। অবশ্য, পরে তা সংশোধন করে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন শুধু ২টি আসনের ফলাফলই স্থগিত করেছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইমরানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদের ফলাফল স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। ২৫শে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্যামেরার সামনে ব্যালটে নিজের ভোট দেয়ায় ইমরানের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। আর লাহোরের আদালতে একটি মামলা ঝুলে থাকাকে কেন্দ্র করে ইমরানের এনএ-১৩১ আসনের ফল স্থগিত করা হয়েছে।

ইমরানের ২টি আসনে ফল স্থগিত হওয়া এবং ৩টি আসনে শর্তযুক্ত ফল ঘোষণার পর, তিনি সরকার গঠন করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মোট স্থগিত হওয়া ৯টি আসনের মাঝে ৪টিই পিটিআই-এর ও ৩টি পিএমএল-এন এর। এছাড়া, পাকিস্তান পিপল’স পার্টির (পিপিপি) একটি ও বিএপি’র একটি করে আসন রয়েছে। এতে পিটিআই-এর আসন সংখ্যা ১১২তে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি পিএমএল-এন এর আসন সংখ্যা ৬১টি ও পিপিপি’র আসন সংখ্যা ৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। ৯টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনের ফল স্থগিত করা হয়েছে হাইকোর্টের আদেশে। সূত্র: দ্য ডন।

About superadmin

Check Also

এরদোগান আবারো একে পার্টির চেয়ারম্যান হলেন

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ আবারো এরদোগান দেশটির ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *